সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডের খবরে আতঙ্ক, সুইটির সন্ধানে উৎকণ্ঠিত পরিবার

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৩ বিকাল
  • ১৮১৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ছবির নারীকে মেয়ে বলে দাবি স্বজনদের, নিশ্চিত তথ্য মেলেনি

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নিখোঁজ মেয়ের সন্ধানে উদ্বেগে দিন কাটছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের এক পরিবারের। ছড়িয়ে পড়া ছবির একটিতে থাকা নারীকে নিজেদের মেয়ে সুইটি আক্তার বলে দাবি করেছেন স্বজনেরা। তবে সুইটি মৃত্যুদণ্ডের ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, কিংবা তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুইটি আক্তার মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী চরপাড়া গ্রামের ফজল মিয়ার ছোট মেয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরের পর থেকে তাঁর মা-বাবা মেয়ের জীবিত থাকার আশা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজের কথা বলে সৌদি আরবে

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের পর ২০২৩ সালে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান সুইটি। স্বজনদের দাবি, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজের কথা বলে তাঁকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। এ জন্য নতু মিয়া নামের এক দালালকে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের মক্কায় ‘আল মাজাল আল আরবি গ্রুপ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন সুইটি। দেশটিতে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর তিনি গ্রেপ্তার হন। তবে গ্রেপ্তারের খবর পরিবার জানতে পারে প্রায় এক বছর পর। পরে মোবাইল ফোনে সুইটি নিজেই তাঁদের আটকের বিষয়টি জানান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সুইটি তাঁদের কাছে মারামারির একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে সৌদি আরবে থাকা তাঁর এক বান্ধবীর কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, এক বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এসব তথ্যের কোনোটিই স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

১৩ অক্টোবর শেষ কথা, ফেরার কথা জানিয়েছিলেন

সুইটির বাবা ফজলু মিয়ার ভাষ্য, গত ১৩ অক্টোবর সকালে মেয়ের সঙ্গে তাঁদের সর্বশেষ যোগাযোগ হয়। তখন সুইটি জানিয়েছিলেন, আড়াই মাসের মধ্যে দেশে ফিরবেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

মেয়ে বেঁচে আছেন কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন মা জহুরা বেগম ও বাবা ফজলু মিয়া। মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা। স্বজনেরা এখন তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত খবরের অপেক্ষায় আছেন।

পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, সুইটি জীবিত থাকলে তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। আর তাঁর মৃত্যুর খবর সত্য হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

তথ্য যাচাই করছে পুলিশ ও প্রশাসন

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সুইটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করতে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad