আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে: শফিকুর রহমান

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ দুপুর
  • ৩৫৪৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg শফিকুর রহমান
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আমাদের দরজায় টোকা দিচ্ছে।’ এ জন্য মুক্তিকামী দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নিতে হবে। আগামী ৯ নভেম্বর জাতীয় সংসদের অধিবেশনের আগেই সরকারকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ঘোষণা দিতে হবে। তা না হলে জনগণের দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা।

তিনি বলেন, সরকার দাবি মেনে নিয়ে সুস্থ ধারায় ফিরে এলে বিরোধী দলের নতুন কর্মসূচি দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু গণভোটে অংশ নেওয়া জনগণের রায় উপেক্ষা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

যুবসমাজকে লড়াইয়ের প্রস্তুতির আহ্বান

যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা পদদলিত করা হচ্ছে অভিযোগ করে জামায়াতের আমির বলেন, রাজপথে লড়াই করে তরুণেরা জাতিকে সাময়িক মুক্তি এনে দিয়েছেন। সেই মুক্তি দীর্ঘস্থায়ী করতে তাঁদের আবারও লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে। বৃহত্তর ত্যাগের জন্য দেশবাসীকেও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা কোনো দলীয় বা ব্যক্তিগত দাবি নিয়ে মাঠে নামেননি; জনগণের দাবি ও ভোগান্তির বিষয়গুলো নিয়েই আন্দোলন করছেন। এর আগে দুটি লংমার্চ জনগণের সমর্থনে সফল হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সাত দফা দাবির মূল বিষয় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ রায় বাস্তবায়িত হলে বাকি ছয় দফার প্রয়োজন হতো না বলে তাঁরা মনে করেন। তাঁর দাবি, গণভোটের রায় কার্যকর হলে চাঁদাবাজি, দখলদারি, দুর্নীতি ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো।

বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

বিএনপির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দলটি জাতিকে হতাশ করেছে এবং কথা দিয়ে কথা রাখেনি। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে মিথ্যাচার করেছে এবং জাতির আকাঙ্ক্ষা ও গণরায়কে উপহাস করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিএনপিকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। তা না হলে দলটিকে উচ্চ মূল্য দিতে হতে পারে। অতীতের স্বৈরাচারী শাসন ও নিজেদের ভুল থেকে বিএনপি শিক্ষা নেয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চার দিনের বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের আমির বলেন, সফরের উদ্দেশ্য ও ফলাফল জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো গোপনীয়তা রয়েছে কি না, তা জনগণ জানতে চায়। তিনি বলেন, ‘কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারো কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না।’

সাত দফা দাবিতে লংমার্চ

শনিবার সকাল ৭টায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। তিনি বলেন, জনগণের দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই এ লংমার্চ। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার কমিটি গঠন করে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে বলেও মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বক্তব্য দেন। তবে সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সমাবেশ শেষে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে। এতে নেতৃত্ব দেন ডা. শফিকুর রহমান। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে ছয় শতাধিক গাড়ি বহরে অংশ নেয় এবং পথে আরও প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হওয়ার কথা। প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাতে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা।

পথসভা ও সমাপনী সমাবেশের সূচি




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad