টিসিবির ১ হাজার ২১৮ কোটি টাকা ভর্তুকি বকেয়া, প্রতিদিন সুদ বাড়ছে ৪০ লাখ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪২ দুপুর
  • ৫৭৯২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সরকারের কাছে সংস্থাটির ভর্তুকি বাবদ পাওনা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮ কোটি টাকা। এ অর্থ ছাড়ের আবেদন করেও এখনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। অন্যদিকে, আমদানি ও স্থানীয়ভাবে পণ্য কেনার জন্য বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ৫১ হাজার টাকা সুদ যোগ হচ্ছে। এতে সরকারের আর্থিক দায় বাড়ার পাশাপাশি টিসিবির নিয়মিত পণ্য সরবরাহ কার্যক্রমও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভর্তুকির অর্থ সময়মতো না পাওয়ায় ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোর পাওনা বাড়ছে। নতুন করে পণ্য কেনার জন্য ঋণ ও ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়ছে সংস্থাটি।

টিসিবির হিসাবে, বর্তমানে স্মার্ট কার্ডধারী এক কোটি পরিবারের কাছে নিয়মিত ভর্তুকি মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে দ্রুত ভর্তুকির অর্থ ছাড়ের অনুরোধ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানোর কথা জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

প্রতিদিন বাড়ছে সুদের বোঝা

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ভর্তুকির অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হওয়ায় বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে সংস্থাটির দায় বাড়ছে। সর্বশেষ হিসাবে, বকেয়া ঋণের বিপরীতে দৈনিক সুদের পরিমাণ ৪০ লাখ ৫১ হাজার ২৩০ টাকা। সময়মতো ভর্তুকির অর্থ পাওয়া না গেলে এ সুদের অঙ্ক আরও বাড়বে। শেষ পর্যন্ত বাড়তি এ দায় সরকারের ওপরই পড়বে।

নতুন পণ্য কেনায় বাধার আশঙ্কা

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় ব্যাংক থেকে নেওয়া এলটিআর (লোন অ্যাগেইনস্ট ট্রাস্ট রিসিট) ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো টিসিবির আমদানি করা কিংবা স্থানীয়ভাবে কেনা পণ্যের বিল পরিশোধে নতুন করে ট্রাস্ট রিসিট সুবিধা দিতে অনীহা দেখাচ্ছে।

ফলে নতুন করে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও চিনি কেনার জন্য ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে টিসিবি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এ অবস্থা চলতে থাকলে সংস্থাটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

বর্তমানে টিসিবি প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনি বিক্রি করছে। বাজারদরের তুলনায় কম দামে এসব পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা কমিয়ে রাখাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য। অর্থ ছাড়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে এক কোটি উপকারভোগী পরিবারের নিয়মিত পণ্যপ্রাপ্তি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিজস্ব তহবিল নেই টিসিবির

টিসিবির মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন দৈনিক আমার দেশকে বলেন, টিসিবির নিজস্ব কোনো তহবিল নেই। সরকারিভাবে ভর্তুকি দিয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করা হয় এবং ভর্তুকির অর্থ সরকারই পরিশোধ করে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের লোকসানের বিপরীতে ভর্তুকির অর্থ চেয়ে সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট-১-এর যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক-উজ-জামান বলেন, টিসিবিকে সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে। সংস্থাটির ভর্তুকির অর্থ ছাড়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তথ্যসূত্র: টিসিবি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad