সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে সিলেটে বাংলাদেশ, আত্মবিশ্বাসী ওয়েস্ট ইন্ডিজ

  • প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১০ বিকাল
  • ৬২২২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা টেস্টে ৮ উইকেটের হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ; দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু ৫ নভেম্বর

সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে সিলেটে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ। মিরপুরে প্রথম টেস্টে আট উইকেটে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়া স্বাগতিকদের সামনে এখন জয় ছাড়া বিকল্প নেই। অন্যদিকে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট জিতে সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিতে চায় আত্মবিশ্বাসী ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

আগামী ৫ নভেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের শেষ টেস্ট। মঙ্গলবার সিলেটের সবুজ মাঠে দুই দলের অনুশীলনে ছিল ভিন্ন চিত্র। সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে দেখা গেছে বেশ ফুরফুরে মেজাজে। প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামিও ছিলেন হাসি-আনন্দে মেতে। বিপরীতে বাংলাদেশের অনুশীলনে ছিল ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ।

ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই

মিরপুর টেস্টে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরি ছাড়া ব্যাটিংয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য ছিল না। ওই ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২৭২ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও বিপর্যয়ে পড়ে দল; গুটিয়ে যায় মাত্র ১৪৫ রানে। নাঈম হাসানের অর্ধশতক না এলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারত।

সিলেটে ঘুরে দাঁড়াতে হলে প্রথমেই ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে বাংলাদেশের ব্যাটারদের। টপ অর্ডারকে শক্ত ভিত গড়ে দিতে হবে, আর মিডল অর্ডারকে নিতে হবে ইনিংস বড় করার দায়িত্ব। ভালো শুরু পেয়েও উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়তে পারলে বোলারদের জন্যও লড়াইয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

মুশফিকের ফেরা স্বস্তি, মুমিনুলের অনুপস্থিতি ধাক্কা

ইনজুরি কাটিয়ে মুশফিকুর রহিমের দলে ফেরা বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর। অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের প্রত্যাবর্তনে ব্যাটিং বিভাগে বাড়তি শক্তি পাওয়ার আশা করছে দল। তবে কনকাশনের কারণে মুমিনুল হকের ছিটকে যাওয়া বড় ধাক্কা। তাঁর অনুপস্থিতিতে মিডল অর্ডারে অন্যদের বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে।

মুমিনুলের বদলি হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন অমিত হাসান। সিলেটের উইকেট নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ জানিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত উইকেট ঘাসযুক্ত মনে হচ্ছে। তবে টেস্ট শুরুর আগে এক-দুদিন সময় থাকায় শেষ পর্যন্ত উইকেটের ধরন বোঝা যাবে।

মুমিনুলের জায়গায় খেলার সুযোগ পেলে নিজের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাটিং করার কথা জানিয়েছেন অমিত। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যেভাবে খেলেছেন, সেভাবেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

উইকেট বুঝে বোলিং পরিকল্পনা

মিরপুরে স্পিননির্ভর উইকেট তৈরি করে নিজেদের পরিকল্পনাতেই বিপাকে পড়েছিল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে স্পিনে আটকে রাখার কৌশল কাজে আসেনি; বরং ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা বাংলাদেশের স্পিনারদের তুলনায় বেশি কার্যকর ছিলেন।

সিলেটে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে উইকেটের ধরন বুঝে বোলিং পরিকল্পনা সাজাতে হবে। স্পিনারদের পাশাপাশি পেসারদেরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। শুধু টার্নের ওপর নির্ভর না করে লাইন ও লেংথের নিয়ন্ত্রণ দিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখাই হবে গুরুত্বপূর্ণ।

আত্মবিশ্বাসী ওয়েস্ট ইন্ডিজ

প্রথম টেস্টে বড় জয় পাওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে আত্মবিশ্বাসের ছাপ স্পষ্ট। সিলেটেও জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সিরিজ নিজেদের করে নেওয়ার লক্ষ্য তাদের। অনুশীলনে দলটির স্বচ্ছন্দ উপস্থিতিও সেই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন।

তবে বাংলাদেশের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এখনো রয়েছে। ঢাকা টেস্টের ভুলগুলো শুধরে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—সব বিভাগে সমন্বিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে সিরিজে সমতা ফেরানো সম্ভব। সিলেটের দ্বিতীয় টেস্ট তাই বাংলাদেশের জন্য শুধু আরেকটি ম্যাচ নয়, দেশের মাটিতে সিরিজ হার এড়ানোর লড়াইও।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad