ফিটনেস ধরে রাখতে খাবারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করতে রাজি নন ভারতের তারকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলি। প্রতিদিন নতুন নতুন স্বাদের খাবার কিংবা বাহারি পদ নয়, বরং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার নির্দিষ্ট নিয়মে খেতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। প্রয়োজনে টানা ছয় মাস দিনে তিনবার একই খাবার খেতেও আপত্তি নেই এই ক্রিকেটারের।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ফিটনেস ও খাদ্যাভ্যাসের নানা দিক তুলে ধরেন কোহলি। তিনি জানান, ফিটনেসের যাত্রার শুরুতে ভিটামিন, শরীরের পানির ভারসাম্য এবং প্রোটিন গ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। তবে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি বুঝেছেন, সবার আগে নিজের শরীরের চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ভারসাম্য খুঁজে নেওয়া জরুরি।
কোহলির মতে, ফিট থাকতে সব সময় নতুন কিছু করার প্রয়োজন নেই। বরং শরীরের জন্য কোন অভ্যাস কার্যকর, তা বুঝে নিয়ে নিয়মিত অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একবার উপযুক্ত ভারসাম্য খুঁজে পেলে বারবার নতুন পদ্ধতি পরীক্ষা করারও প্রয়োজন পড়ে না।
ব্যায়ামের চেয়ে কঠিন খাদ্যনিয়ন্ত্রণ
শরীরচর্চার তুলনায় খাবারের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখাকে বেশি কঠিন মনে করেন কোহলি। তাঁর মতে, জিমে গিয়ে নির্দিষ্ট ব্যায়াম করার সিদ্ধান্ত নিলে তা বাস্তবায়ন করা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু খাবারের ক্ষেত্রে স্বাদ, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ এবং নানা ধরনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
পছন্দের খাবার এড়িয়ে শরীরের জন্য উপযোগী খাবার বেছে নিতে প্রয়োজন মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ। এ প্রসঙ্গে কোহলি জানান, চাইলে তিনি টানা ছয় মাস দিনে তিনবার একই খাবার খেতে পারবেন। এতে তাঁর কোনো সমস্যা হবে না। প্রতিদিন নতুন স্বাদের খাবার খোঁজার চেয়ে নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা অনুসরণ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি।
খাবার তৈরিতে সহজ পদ্ধতি, মসলার ব্যবহার সীমিত
নিজের খাবার তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কেও বিস্তারিত জানিয়েছেন কোহলি। তাঁর খাদ্যতালিকার প্রায় ৯০ শতাংশ খাবারই ভাপানো অথবা সেদ্ধ করা। রান্নায় মসলার ব্যবহারও থাকে খুব সীমিত।
বেশিরভাগ খাবার লবণ, গোলমরিচ ও লেবু দিয়ে খেতে পছন্দ করেন তিনি। সালাদে কখনো সামান্য ড্রেসিং ব্যবহার করেন। অন্যদিকে, প্যানে গ্রিল করা খাবার তৈরির সময় অল্প পরিমাণ অলিভ অয়েল ব্যবহার করেন।
তাঁর খাদ্যতালিকায় ডাল ও রাজমার মতো সাধারণ খাবারও রয়েছে। অর্থাৎ দামি কিংবা বাহারি খাবারের পরিবর্তে সহজ উপকরণে তৈরি পুষ্টিকর খাবারই তাঁর খাদ্যাভ্যাসের মূল ভিত্তি।
বয়স বাড়লেও মাঠের পারফরম্যান্স ও ফিটনেস ধরে রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখছেন কোহলি। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে এক আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ড গড়া এই ক্রিকেটারের মতে, ফিটনেসের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের শরীরের প্রয়োজন বোঝা এবং সেই অনুযায়ী ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক