কেনিয়ায় অনাহারে ১৯১ জনকে হত্যার দায়ে ধর্মগুরুর ২০০ বছরের কারাদণ্ড

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৫ বিকাল
  • ৭৮৭৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
আদালতে দোষী সাব্যস্ত ২৮ সহযোগীও, নিহতদের অধিকাংশই শিশু

কেনিয়ায় ধর্মীয় বিশ্বাসের নামে অনুসারীদের অনাহারে রেখে ১৯১ জনকে হত্যার দায়ে স্বঘোষিত ধর্মগুরু পল ম্যাকেনজিকে ২০০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই ঘটনায় জড়িত আরও ২৮ জন সহযোগীকেও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই শিশু।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দেওয়া রায়ে বিচারক ডায়ানা মোচাচে বলেন, অনুসারীদের না খাইয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় পল ম্যাকেনজিই প্রধান দায়ী। এ ধরনের নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতেই সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

আদালত হত্যা-সংক্রান্ত অপরাধে ম্যাকেনজিকে ১০০ বছর এবং অনাহারে মৃত্যুর ঘটনায় আরও ১০০ বছরের কারাদণ্ড দেন। পৃথক দুই অপরাধের সাজা পরপর কার্যকর হওয়ায় তার মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ দাঁড়িয়েছে ২০০ বছর।

এ ঘটনায় তার ২৮ সহযোগীকেও সর্বোচ্চ ১৬০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিতদের মধ্যে রয়েছেন অনুসারীদের অনাহারে থাকতে বাধ্য করা এবং নির্দেশ অমান্যকারীদের ওপর নির্যাতন চালানো ব্যক্তিরা। এ ছাড়া গণকবর খননে সহায়তাকারীরাও রয়েছেন।

শাকাহোলা বনে ভয়াবহ গণকবরের সন্ধান

২০২৩ সালে কেনিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলের শাকাহোলা বন থেকে চার শতাধিক গণকবর ও মরদেহ উদ্ধারের পর আলোচনায় আসে পল ম্যাকেনজির নেতৃত্বাধীন ধর্মীয় গোষ্ঠী। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের কথা বলে অনুসারীদের সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।

গোষ্ঠীটি নিজেদের মধ্যে এমন একটি ধর্মীয় ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল, যেখানে অনাহারে মৃত্যুকে ‘যিশুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া’ হিসেবে প্রচার করা হতো। কেউ অনাহারে থাকতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ ও তদন্তে উঠে আসে।

মৃত্যুদণ্ডের আবেদন নাকচ

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা পল ম্যাকেনজির মৃত্যুদণ্ড দাবি করলেও বিচারক ডায়ানা মোচাচে তা নাকচ করেন। তার যুক্তি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে আসামির সংশোধন কিংবা অনুশোচনার সুযোগ চিরতরে শেষ হয়ে যায়। তবে কেনিয়ায় ১৯৮৭ সালের পর থেকে কার্যত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে না।

এ হত্যাকাণ্ডের পর দেশটিতে ধর্মীয় সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে নজরদারির অভাব এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, আজকের পত্রিকা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad