"ভাত ও ব্যালট নয়, বাংলাদেশকে বানানো হয়েছিল মৃত্যুকূপ"- রায়গঞ্জে মামুনুল হক

  • পারভেজ সরকার,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৮ বিকাল
  • ১২৬৬৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg "ভাত ও ব্যালট নয়, বাংলাদেশকে বানানো হয়েছিল মৃত্যুকূপ"- রায়গঞ্জে মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, এদেশে ভাত ও ব্যালটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নয়; বরং বাংলাদেশকে পরিকল্পিতভাবে একটি মৃত্যুকূপে পরিণত করা হয়েছিল। মানুষের কণ্ঠরোধ করতে গুম করা হয়েছে অসংখ্য মানুষকে। নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে বহু আলেম ও ওলামায়ে কেরামকে।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারী) বিকেল ৪ টায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ভূইয়াগাঁতীতে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আল্লামা মামুনুল হক বলেন, সারাদেশে প্রায় চার কোটি ছাত্র-জনতা জুলুম ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেমেছিল। এই সংগ্রাম সহজ ছিল না। অনেক রক্ত ঝরেছে, অনেক জীবন গেছে, অসংখ্য মায়ের বুক ভেসেছে কান্নায়। দেড় হাজার মানুষ শাহাদাত বরণ করেছেন, আহত হয়েছেন ৩০ হাজারের বেশি জুলাইযোদ্ধা। এত ত্যাগের পর বাংলার জমিন ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। এরপর মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল, এবার অন্তত কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, এদেশের মানুষ ভেবেছিল- এবার আর চাঁদাবাজি থাকবে না, থাকবে না সন্ত্রাস। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, একটি গোষ্ঠী আজ ১৫ বছরের খুদার জীবনের রক্ত শুষে লুটপাটে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে শাসকের পরিবর্তন হয়েছে বারবার, কিন্তু শোষণের চরিত্রের কোনো পরিবর্তন হয়নি। স্বাধীনতার আগে বিদেশি শাসকেরা এদেশের সম্পদ লুট করে নিজেদের দেশে নিয়ে যেত। আর এখন দেশের শাসকরাই সেই সম্পদ বিদেশে পাচার করছে।

সতর্কবার্তা দিয়ে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, এদেশের ইসলামপন্থীরা কারও ভাড়াটিয়া হিসেবে বেঁচে থাকবে না। কেউ যদি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে, তার পরিণতি ভালো হবে না। এদেশের মানুষের সঙ্গে বেইমানি করলে বাংলাদেশে টিকে থাকা সম্ভব হবে না। এটি ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায়ের বাংলাদেশ। রক্ত দিয়ে আমরা এই দেশ কিনেছি।

বাংলাদেশ থেকে দুটি ভূত দূর করতে হবে। আর সেই ভূত তাড়াতেই আমরা মাঠে নেমেছি। ইনশাআল্লাহ, ১২ তারিখে ১১ দলীয় জোটের ভূমিধস জয় হবে।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও দুর্নীতিকে চিরতরে বিদায় জানাতে এবং টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত দেশের রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করার লক্ষ্যে ১১টি দল আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ১১ দলীয় জোটের পক্ষে ইতোমধ্যে একটি গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

জনসভায় উপজেলা খেলাফত মজলিসের আমির মো. আলী মর্তুজার সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ডা. এস এম মুনসুর আলী ও উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল লতিফ খানের যৌথ সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর শায়খ ড. আব্দুস সামাদ, ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা মুফতি আব্দুর রউফ, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুস ছালাম ও সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক নাসির উদ্দীনসহ জোটের অন্যান্য নেতারা।জনসভায় প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad