গত দুই দশকে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৬৮ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছেছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
অর্থমন্ত্রী জানান, বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা এবং অর্থনীতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ানোর অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আহরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
প্রস্তাবিত বাজেট এখন সংসদে আলোচনার পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হবে। :::

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক