পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দলের ভেতরে বড় ধরনের অসন্তোষের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের ১৯ জন লোকসভা সদস্য দলীয় অবস্থান থেকে সরে এসে পৃথক ব্লক গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে দাবি উঠেছে।
ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বিদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত ১৯ জন সংসদ সদস্য লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেছেন। এ সংক্রান্ত একটি চিঠির স্বাক্ষরিত কয়েকটি পৃষ্ঠাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে প্রকাশিত নথিগুলো প্রকৃতপক্ষে স্পিকারের কাছে পাঠানো চিঠির অংশ কি না এবং সেগুলো আদৌ স্পিকারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে কি না— সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রকাশ্যে আসা স্বাক্ষর তালিকায় প্রথম নাম রয়েছে বারাসতের সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদারের। এছাড়া তালিকায় রয়েছেন বীরভূমের শতাব্দী রায়, মথুরাপুরের বাপি হালদার, বর্ধমান পূর্বের শর্মিলা সরকার, হাওড়ার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, কোচবিহারের জগদীশ বর্মা বসুনিয়া, বোলপুরের অসিত মাল, বাঁকুড়ার অরূপ চক্রবর্তী, ঝাড়গ্রামের কালীপদ সরেন, ঘাটালের দীপক অধিকারী (দেব), মেদিনীপুরের জুন মালিয়া, ব্যারাকপুরের পার্থ ভৌমিক, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান, মুর্শিদাবাদের আবু তাহের খান, বহরমপুরের ইউসুফ পাঠান, আরামবাগের মিতালি বাগ এবং কলকাতা দক্ষিণের মালা রায়।
এ ছাড়া হুগলির রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও যাদবপুরের সায়নী ঘোষের স্বাক্ষরও পৃথকভাবে প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্রের দাবি, বিদ্রোহী এমপিরা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একটি পৃথক সংসদীয় ব্লক গঠনের স্বীকৃতি চেয়েছেন। তবে এ বিষয়ে লোকসভার স্পিকার কার্যালয় কিংবা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এ তথ্য সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এটি হতে পারে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সংকট এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সূচনা।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক