'পুরো চট্টগ্রাম পানির নিচে'—সংসদে জামায়াত এমপি; জলাবদ্ধতা নিয়ে তোপ, ত্রাণের আশ্বাস সরকারের

  • মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:০৬ রাত
  • ২২৭৮৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা। তারা বলেছেন, নগরী থেকে শুরু করে জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ পানিতে তলিয়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ধীরগতি ও সমন্বয়হীনতারও সমালোচনা করেন তারা।

বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, "পুরো চট্টগ্রাম আজ পানিতে ভাসছে।" তিনি জানান, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, পটিয়া, আনোয়ারা ও কর্ণফুলীসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভয়াবহ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।

তিনি বলেন, নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য দ্রুত শুকনো খাবার সরবরাহ এবং নদীভাঙন কবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, গত চার দিনের টানা বৃষ্টিতে তার নির্বাচনি এলাকা আনোয়ারা ও কর্ণফুলীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অন্যদিকে জামায়াতের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৭ সালে বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও প্রায় নয় বছর পরও কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি। এর অন্যতম কারণ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে সুইস গেট, খাল পুনঃখনন, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশনের অবকাঠামো উন্নয়নে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও প্রকৌশল বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, অতিবৃষ্টির কারণে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকার ইতোমধ্যে প্রতিটি জেলায় ২০০ মেট্রিক টন চাল, ১০ লাখ টাকা এবং প্রয়োজনীয় প্যাকেটজাত শুকনো খাবার বরাদ্দ দিয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের পরামর্শ অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad