সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান শাইনপুকুর সিরামিকস লিমিটেডকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বেক্সিমকো গ্রুপ ঋণখেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কাঁচামাল আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলায় যে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিরসনে শতভাগ মার্জিনের ভিত্তিতে এলসি খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনায় বলা হয়, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ কক (৩) ধারার বিধান শাইনপুকুর সিরামিকসের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। ফলে প্রতিষ্ঠানটি সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে শতভাগ মার্জিন জমা দিয়ে শুধুমাত্র কাঁচামাল আমদানির উদ্দেশ্যে এলসি খুলতে পারবে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এ সুবিধার আওতায় দেওয়া কোনো ঋণ বা অর্থায়নের দায় সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংক বহন করবে না। ভবিষ্যতে এসব ঋণের বিপরীতে কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা বা ক্ষতিপূরণও দাবি করতে পারবে না সংশ্লিষ্ট ঋণদাতা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ কক (৩) ধারায় উল্লেখ রয়েছে, কোনো ঋণখেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নতুন করে ঋণসুবিধা দিতে পারবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেক্সিমকো গ্রুপ ঋণখেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হওয়ায় গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে শাইনপুকুর সিরামিকসের এলসি খোলার ক্ষেত্রেও আইনি জটিলতা দেখা দেয়। যদিও প্রতিষ্ঠানটি নিজে পৃথকভাবে ঋণখেলাপি নয়, তবুও গ্রুপভুক্ত হওয়ায় একই বিধিনিষেধের আওতায় পড়ে।
আইনে অবশ্য একটি ব্যতিক্রমী বিধান রয়েছে। কোনো গ্রুপের খেলাপি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃত খেলাপি না হলে বা বাংলাদেশ ব্যাংক যদি মনে করে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে, তাহলে গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খেলাপি হিসেবে গণ্য করা হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানকে ঋণসুবিধা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক শাইনপুকুর সিরামিকসের জন্য এ বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।
এর আগে একই ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল ঋণখেলাপি আবদুল মোনেম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারিকে। ওই প্রতিষ্ঠানকে এক বছরের জন্য একই ধরনের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক