ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ৯ বছরের শিশুকে হত্যা: চট্টগ্রামে রুবেলের মৃত্যুদণ্ড

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫০ দুপুর
  • ৭৩১৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় ৯ বছর বয়সী শিশু আয়নীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং লাশ গুমের আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি মো. রুবেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্র জানায়, মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, জব্দকৃত আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনায় আদালত নিশ্চিত হন যে, ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় আদালত রুবেলকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেন। এছাড়া পৃথক ধারায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরও একটি ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২১ মার্চ নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়নী। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পাওয়ায় শিশুটির মা পাহাড়তলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

তদন্তে স্থানীয় সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের নয় দিন পর পাহাড়তলীর মুরগির ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে আয়নীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির ব্যবহৃত পোশাক ও স্যান্ডেলও উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, পূর্বপরিচয়ের সুযোগ নিয়ে বিড়ালছানা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রুবেল শিশুটিকে তার ফুফুর খালি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হলে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে নিজের সবজিবাহী ভ্যানে করে ডোবায় ফেলে দিয়ে গুমের চেষ্টা করে।

মরদেহ উদ্ধারের পর আয়নীর মা চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ নালিশি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ তদন্ত শেষে রুবেলের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণচেষ্টা, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, গ্রেপ্তারের পর রুবেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। পাশাপাশি ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত এ রায় প্রদান করেছেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad