বিমসটেক (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন)-এর মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে বলেছেন, বিমসটেকের সঙ্গে সার্কের তুলনা করা বিভ্রান্তিকর, অযৌক্তিক এবং এতে আঞ্চলিক এ জোটের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়। তাঁর মতে, বিমসটেককে অন্য কোনো আঞ্চলিক সংস্থার মানদণ্ডে নয়, বরং নিজস্ব লক্ষ্য, অর্জন ও সম্ভাবনার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত।
মঙ্গলবার ঢাকায় বিমসটেক সদর দপ্তরে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব)-এর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইন্দ্র মণি পান্ডে বলেন, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। সদস্য দেশগুলোর অভিন্ন স্বার্থ ও যৌথ আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিমসটেক ইতোমধ্যে একটি কার্যকর ও গতিশীল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, বিমসটেক এখন আর ভবিষ্যতের কোনো সম্ভাবনার নাম নয়; এটি বর্তমান সময়ের একটি বাস্তব সুযোগ। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উচিত বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা, পরিবেশ এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
মহাসচিব জানান, বর্তমানে বিমসটেকের সভাপতিত্ব বাংলাদেশের হাতে রয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশ এ দায়িত্ব গ্রহণ করে। সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ বিমসটেককে আরও কার্যকর, ফলাফলভিত্তিক ও জনকেন্দ্রিক আঞ্চলিক সংস্থায় পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিমসটেক দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাতটি দেশ—বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডকে একত্রিত করেছে। প্রায় ১৮০ কোটি মানুষের এই অঞ্চলকে প্রতিনিধিত্বকারী জোটটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ইন্দ্র মণি পান্ডে বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিমসটেকের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ করে সনদ গ্রহণের পর সংগঠনটির কার্যক্রম সাতটি প্রধান খাতে বিন্যস্ত করা হয়েছে এবং প্রতিটি খাতের নেতৃত্ব একটি করে সদস্য রাষ্ট্র পালন করছে।
ভিসা সহজীকরণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সদস্য রাষ্ট্রগুলো বর্তমানে একটি ভিসা সহজীকরণ স্কিম চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা করছে। তাঁর ভাষায়, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, ভ্রমণ, পর্যটন ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়াতে সহজ ভিসা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিমসটেক মহাসচিব বলেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। তবে আগামী মাস ও বছরগুলোতে এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক