চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নাঈম হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নুরুল ইসলাম ইরান (৪৫) গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা তার বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটেরখীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নুরুল ইসলাম ইরান দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামের নুর মিয়ার ছেলে। তিনি কিশোর নাঈম (১৬) হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদক কারবারসহ বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিশোর নাঈমের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রাত দেড়টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ ইরানকে ঘেরাও করে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে দক্ষিণ ভাটেরখীলের ভূঁইয়ার দোকান এলাকায় অবস্থিত ইরানের বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
জানা যায়, গত ২০ জুলাই রাতে নাঈমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, ইয়াবা হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে নির্যাতন ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা।
পরে পরিবারের সদস্যরা নাঈমকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৫ জুলাই সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নাঈমের বাবা মো. খোকন বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয়ভাবে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত ইরানের কিছু ইয়াবা হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাঈমকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার, আধিপত্য বিস্তার এবং একের পর এক সহিংস ঘটনার কারণে ইরান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এলাকায় ক্ষোভ জমে ছিল। সময়মতো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে দাবি করেন তারা।
মুরাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এজাহার বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার ও বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। এসব ঘটনায় মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন জানান, নাঈম ও শামীম হত্যা মামলার আসামি ছিলেন ইরান। নাঈম হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আলতাফ হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পৃথক মামলা হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই; ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক