২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এমএমএফ পোশাক বাজারের ১২ শতাংশ দখলের সম্ভাবনা বাংলাদেশের

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৯ দুপুর
  • ৪৯২৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

নীতিগত সংস্কার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পের সক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) পোশাক বাজারের ১২ শতাংশ দখল করতে পারে বাংলাদেশ। এতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তুলাভিত্তিক পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমবে, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ত্বরান্বিত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) এক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব পোশাকশিল্প দ্রুত তুলাভিত্তিক পণ্য থেকে কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাকের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদারের বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

গবেষণা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এমএমএফ পোশাক বাজারের আকার প্রায় ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। তাই দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি কৌশলের অংশ হিসেবে এ বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব অর্জনের লক্ষ্যে এখন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিএফটিআইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের জন্য এ সুযোগ হাতছাড়া করার অবকাশ নেই। বৈশ্বিক এমএমএফ বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বজায় থাকবে, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের পোশাকশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।

গবেষণায় বাংলাদেশকে এমএমএফ পোশাক উৎপাদনের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করার রোডম্যাপও তুলে ধরা হয়েছে। এতে ধাপে ধাপে নীতিগত সংস্কার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে এমএমএফ খাতের বিকাশে কাঁচামালের শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করা, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা, দেশে পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার ও সিনথেটিক সুতা উৎপাদন সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে অর্থায়নের ব্যবস্থা এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি এখনও মূলত তুলাভিত্তিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা দ্রুত সিনথেটিক ও মিশ্র তন্তুর পোশাকের দিকে সরে যাচ্ছে। ফলে এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্য পরিবেশে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এমএমএফ খাতের সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।

ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শক্তিশালী নীতিগত সহায়তা এবং সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এমএমএফ উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।

এ ছাড়া প্রতিবেদনে এমএমএফ উৎপাদনকারীদের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ, বিশেষায়িত ঋণ কর্মসূচি চালু, প্রযুক্তি স্থানান্তরে উৎসাহ প্রদান এবং অ্যাকটিভওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইলের মতো উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

বিএফটিআইর আশা, সরকারের প্রণীত রোডম্যাপ যথাসময়ে বাস্তবায়ন এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করা গেলে আগামী এক দশকে কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad