সাড়ে ৬ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের সুপারিশ জামুকার

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১১ সকাল
  • ৯৬৭৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৬৫ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের সুপারিশ করেছে। মঙ্গলবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা), বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কমিটির সদস্য এবং জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাকে সংসদীয় কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য জামায়াতের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে।

বৈঠকে জামুকার কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে জানানো হয়, ২০১০ সালে জামুকা গঠনের পর থেকে ১৮ হাজার ৪১৭ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৬৮ জন শহীদ, ১৯৮ জন যুদ্ধাহত, ৫২৯ জন বীরাঙ্গনা এবং ১৬ হাজার ৯২২ জন সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা।

এ ছাড়া বীরাঙ্গনা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ২২২টি আবেদন বর্তমানে অপেক্ষমাণ রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত উপকমিটির যাচাই-বাছাই শেষে সুপারিশ পাওয়া ১০৪ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে করা ২০২টি আবেদন শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

কমিটির সভাপতি মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, কমিটির সদস্য ফজলুর রহমান, আবদুল হান্নান, আমীর এজাজ খান ও রোকেয়া বেগম উপস্থিত ছিলেন।

টিসিবির ডিলার নিয়োগে নতুন নীতিমালা

এদিকে একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় করা হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়সল আজাদ জানান, বিগত সরকারের সময়ে টিসিবির ডিলার নিয়োগে কোনো নীতিমালা ছিল না। পাশাপাশি অনেক ডিলার যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। বর্তমানে ডিলার নিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।

তিনি জানান, বিগত সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদের আর নতুন করে ডিলারশিপ দেওয়া হবে না।

বৈঠকে টিসিবিতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে অন্যান্য পণ্য বিক্রির পরিকল্পনার কথা কমিটিকে অবহিত করেন টিসিবি চেয়ারম্যান।

এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের কার্যক্রম নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিশন প্রতিষ্ঠার পর গত ১০ বছরে এর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয়, কমিশনের মাধ্যমে আদায় করা জরিমানার পরিমাণ এবং নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মামলার বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুবের সভাপতিত্বে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, বরকত উল্লাহ বুলু, আবুল হোসেন খান, আবুল কালাম, হেলেন জেরিন খান, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, গাজী এনামুল হক ও আব্দুল মুনতাকিম অংশ নেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad