সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৮ বিকাল
  • ৩৫৮০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ বাড়তে থাকায় পুলিশিংয়ের ধরনেও পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। আধুনিক পুলিশিংয়ের জন্য সাইবার অপরাধ তদন্তে সক্ষমতা অর্জন অত্যন্ত জরুরি।

রোববার রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে ‘সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তবিষয়ক ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি)’ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রযুক্তির অগ্রগতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ

আইজিপি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক, এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মতো নতুন নতুন প্রযুক্তি সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। একই সঙ্গে এসব প্রযুক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অপরাধীরা সাইবারভিত্তিক প্রতারণা, অনলাইন আর্থিক অপরাধ, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, অনলাইনে হয়রানি ও ডিজিটাল চাঁদাবাজির মতো অপরাধ সংঘটিত করছে।

প্রশিক্ষণের জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান

প্রশিক্ষণার্থী পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, এ কোর্সের মাধ্যমে তাঁরা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করবেন না, প্রশিক্ষণ প্রদান ও যোগাযোগের দক্ষতাও অর্জন করবেন। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা অন্যান্য তদন্তকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।

তিনি বলেন, কার্যকরভাবে অন্যান্য তদন্তকারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হলে সাইবার মামলা তদন্তকারীর সংখ্যা বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে।

এ ধরনের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং উইং ও পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান আইজিপি। পাশাপাশি নিয়মিত এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ ও মডিউল হালনাগাদ রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রশিক্ষণ নেবেন ৩৩২ কর্মকর্তা

পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর (অতিরিক্ত আইজি) কাজী মো. ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিআইডি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিআইজি (ট্রেনিং) মো. একরামুল হাবিব।

অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং-২) ড. মোছা. শেহেলা পারভীন সাইবার অপরাধ তদন্ত প্রশিক্ষণের রোডম্যাপ ও বাস্তবায়ন কৌশল উপস্থাপন করেন।

সভাপতির বক্তব্যে কাজী মো. ফজলুল করিম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের এপেক্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হিসেবে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ নানামুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ প্রশিক্ষণ সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং শাখার উদ্যোগে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ ১০ দিনের এ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেছে। পর্যায়ক্রমে টিওটি কোর্সে অংশ নেওয়া ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad