৫১ লাখ মানুষকে কলেরার টিকা দেওয়ার উদ্যোগ, শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৯ দুপুর
  • ১৫২১০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

সারা দেশে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬ শুরু হয়েছে। আগামী ২২ আগস্ট থেকে পর্যায়ক্রমে এ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়ে চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। ক্যাম্পেইনের আওতায় এক বছর বা তার বেশি বয়সি ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে বিনা মূল্যে কলেরার টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচির আওতায় সারা দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। পূর্ণ সুরক্ষার জন্য নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দুটি ডোজ গ্রহণ করা জরুরি।

এক বছর বা তার বেশি বয়সি সব নাগরিককে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিনা মূল্যে এই টিকা দেওয়া হবে। তবে গর্ভবতী নারীরা এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবেন।

ডিএসসিসির অধীন লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানার ১৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্ধারিত এলাকাতেও এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, একসময় কলেরায় গ্রামের পর গ্রাম উজাড় হয়ে যেত। বর্তমানে রোগটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জাতীয় পর্যায়ের অন্যান্য টিকাদান কর্মসূচির মতো কলেরা টিকাদান কর্মসূচিও সফল করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভূমিকারও প্রশংসা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইপিআই কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে ডিএসসিসির। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ১৭টি ওয়ার্ডে কলেরা টিকাদান কর্মসূচিও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, Vibrio cholerae নামের জীবাণুর সংক্রমণে সৃষ্ট কলেরা প্রতিরোধে মুখে খাওয়ার এ টিকা কার্যকর। টিকাটি তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে এবং আক্রান্ত হলে রোগের তীব্রতা কমাতেও সহায়তা করে।

তবে কলেরা প্রতিরোধে টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি ব্যবহার, খাবার ঢেকে রাখা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad