বাঁশখালীতে বন্যার্তদের দাবি: ত্রাণ নয়, টেকসই পুনর্বাসন

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
১১ হাজারের বেশি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত; প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালকের সফর সোমবার

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় সর্বস্ব হারানো মানুষের এখন প্রধান দাবি শুধু ত্রাণ নয়, টেকসই পুনর্বাসন এবং স্থায়ীভাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই। ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি সড়ক ও অবকাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে আগামী সোমবার (৩১ আগস্ট) বাঁশখালী সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া। সফরকালে তিনি কয়েকটি এনজিওর কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ১ হাজার ৫০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবেন।

উপজেলার খানখানাবাদ, গুনাগরি, বাহারছড়া, ছনুয়া, পুঁইছড়ী, শেখেরখীল, চাম্বল, গণ্ডামারা, জলদী, সরল, সাধনপুর, পুকুরিয়া ও বৈলছড়ীর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দাবি, সাময়িক ত্রাণের পাশাপাশি তাদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। গৃহহীনদের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি রয়েছে।

সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেছে।

পুনর্বাসনে জোর দিচ্ছে প্রশাসন

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় সরকারি ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু ত্রাণ দেওয়া নয়; দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত এবং সড়ক ও কালভার্ট সংস্কারের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের বিষয়টি সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। এ লক্ষ্যে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে।

১২ ইউনিয়নের ৫৪ ওয়ার্ড প্লাবিত

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় বাঁশখালী উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের প্রায় ৫৪টি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এতে প্রায় ১১ হাজার ১১০টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যার পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঘরবাড়ি, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্গত মানুষের প্রত্যাশা, ত্রাণের পাশাপাশি দ্রুত ও কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad