ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে বক্তব্যে ভুল, দুঃখ প্রকাশ হাসনাতের

  • মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৪ দুপুর
  • ৭৪৮০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম-ওলামাদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট বন্ধের ঘটনা এবং নৌকাবাইচ নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি সংসদে বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো। তাঁর দাবি, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজ মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়েছেন এবং এতে তাঁদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধের ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছিল, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে ভিন্ন ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। পরে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন।

তিনি দাবি করেন, ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করেননি; তাঁরা শুধু শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ—এমন ধারণা সঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে নৌকাবাইচের স্থান নিয়ে নিজের বক্তব্যে তথ্যগত ভুল হয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন হাসনাত। তিনি বলেন, সিলেটের পরিবর্তে ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম উল্লেখ করেছিলেন। এ ভুলের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং এর জন্য দুঃখিত।

হাসনাত আরও বলেন, মূল ঘটনা এবং গণমাধ্যমে সেটির উপস্থাপন নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করা তাঁর উচিত ছিল। তবে সম্পূরক প্রশ্নের জন্য নির্ধারিত সময় সীমিত থাকায় বিস্তারিত বলার সুযোগ পাননি।

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, তিনি ও তাঁর দল জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করেন এবং ভবিষ্যতের নীতি ও সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের ভিত্তিতেই নিতে চান।

তিনি বলেন, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছে—যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কেউ নিজের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না। মতের পার্থক্য ও বিতর্ক থাকবে, তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের মতামতকে একমাত্র গ্রহণযোগ্য হিসেবে চাপিয়ে দিতে পারবে না।

হাসনাতের ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্যের ওপর অন্যায়ভাবে জোর প্রয়োগ করলে তা প্রতিহত করা এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

বাংলাদেশের বহুত্ববাদী চরিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এই দেশে মসজিদ, মন্দির, সংগীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা, সিনেমা উৎসব—সবই থাকবে। যার যে আয়োজন পছন্দ, তিনি সেখানে অংশ নেবেন; আর যে আয়োজন পছন্দ নয়, সেখানে না যাওয়ার স্বাধীনতাও থাকবে। সরকারের দায়িত্ব হবে, কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

হাসনাত বলেন, সরকার বর্তমানে সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় সমতার বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই ছিল ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিনির্বিশেষে সবার আন্দোলন। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া, সর্বজনীন সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করাই ছিল সেই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য। সেই বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad