ঋণ নিয়মিত করার পর শুরুতে দুই বছর পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধে গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধাও দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিশেষ নীতি সহায়তার জন্য আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা ও আর্থিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিশেষ নীতি সহায়তা পেতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করা যাবে। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যেসব ঋণ খেলাপি হবে, শুধু সেগুলোই এই সুবিধার আওতায় আসবে। আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যাংকই নিষ্পত্তি করবে। তবে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সব আবেদন নিষ্পত্তি করতে হবে ব্যাংকগুলোকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত সময় বাড়ানো যাবে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের আবেদন করা ঋণের স্থিতি এক হাজার কোটি টাকার কম হলে বিশেষ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে আগের নির্দেশনায় নির্ধারিত মেয়াদই কার্যকর থাকবে।
এ ছাড়া আগে বিশেষ নীতি সহায়তা পাওয়া ঋণগ্রহীতারাও নতুন সুবিধার আওতায় আসবেন। এ ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে যে সময় পার হয়েছে, তা নতুন গ্রেস পিরিয়ডের অংশ হিসেবে গণনা করা হবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের জন্য বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন সুবিধার সময়সীমা এর আগে দুই দফা বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথম দফায় ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ সময় বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়। পরে ৭ মে আবার সময় বাড়িয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
এবার নীতি সহায়তার মেয়াদ বাড়ানো এবং বড় ঋণখেলাপিদের নতুন সুবিধা দেওয়ার কারণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, বাজারভিত্তিক সুদহার চালুর ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সুদ ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে ১৮ মাসের একটি রোডম্যাপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর প্রথম ছয় মাস, অর্থাৎ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতাদের নীতিগত সহায়তা দেওয়ার অংশ হিসেবে নতুন এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক