ইসরাইলপন্থিদের চাপ উপেক্ষা করে বসতি-বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আহ্বান

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৯ দুপুর
  • ৪১৮৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগ থেকে যুক্তরাজ্যকে সরে আসতে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ফিলিস্তিনপন্থি মানবাধিকারকর্মী বেন জামাল। এসব চাপ উপেক্ষা করে বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

‘মিডল ইস্ট আই’-এ প্রকাশিত এক মতামতধর্মী নিবন্ধে বেন জামাল বলেন, যুক্তরাজ্য যদি ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে, তাহলে এর প্রভাব শুধু দেশটির নীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; ইউরোপের অন্য দেশগুলোও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত হতে পারে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কের বিষয়। ফিলিস্তিনিরা এসব ভূখণ্ডকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বহু দেশ ইসরাইলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ মনে করে। তবে ইসরাইল এ অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়।

বেন জামালের মতে, কোনো সরকার যদি ইসরাইলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ মনে করে, তাহলে ওই বসতিতে উৎপাদিত পণ্য বা সেখানকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার নীতিও পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

তিনি দাবি করেন, বাণিজ্যের মাধ্যমে ইসরাইলি বসতিগুলোর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সুবিধা পেয়ে থাকে। ফলে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বা বয়কটের মাধ্যমে বসতি সম্প্রসারণের অর্থনৈতিক সুবিধা কমানো সম্ভব হতে পারে।

ইউরোপে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা

বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগের রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে বলে মনে করেন বেন জামাল। ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাতের ইতিহাসে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, লন্ডন যদি বসতিভিত্তিক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইউরোপের অন্যান্য দেশের নীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে ইসরাইলপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সংগঠনের চাপ রয়েছে বলে নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে। এ চাপের কারণে যুক্তরাজ্য সরকার বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বেন জামাল ব্রিটিশ সরকারকে এসব চাপ উপেক্ষা করে উদ্যোগটি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করা ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় যুক্তরাজ্যের একটি বাস্তব রাজনৈতিক পদক্ষেপ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি এ অবস্থানে অটল থাকে, তাহলে এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বিস্তৃত বয়কট ও নিষেধাজ্ঞা উদ্যোগের সূচনা হতে পারে। শুধু রাজনৈতিক বিবৃতি বা উদ্বেগ প্রকাশের পরিবর্তে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নীতিগত অবস্থান কার্যকর করা প্রয়োজন।

বেন জামালের মতে, একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হলো বাণিজ্যনীতি। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি একটি দেশের অবস্থানও প্রকাশ পায়।

এখন বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। লন্ডন শেষ পর্যন্ত চাপ উপেক্ষা করে উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করলে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইউরোপীয় নীতিতে তা নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন বেন জামাল।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad