লংমার্চে বাধা দিলে জনরোষের মুখে পড়বে সরকার: গোলাম পরোয়ার

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৭ বিকাল
  • ৪০৫৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা বা প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে সরকার ও সংশ্লিষ্টরা জনগণের আস্থা হারানোর পাশাপাশি জনরোষের মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরোয়ার।

শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে সেখানে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শান্তিপূর্ণ লংমার্চের প্রস্তুতি

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে শান্তিপূর্ণ লংমার্চ সফল করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

গোলাম পরোয়ার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের পর থেকেই বিরোধী দল জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। তাই বিরোধী দলের সবচেয়ে বড় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি সফল করতে সরকারের কাছে প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তারা।

তিনি বলেন, সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং সরকার এ বিষয়টি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ১১ দল সরকার উৎখাতের আন্দোলন করছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের দাবি গণভোটের রায় ও ছয় দফা বাস্তবায়ন।

দেড় হাজার গাড়ির বহর

গোলাম পরোয়ার জানান, লংমার্চের বহরে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ হবে। এরপর পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।

পথসভার স্থান হিসেবে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও মীরসরাইয়ের কথা জানানো হয়েছে। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, লংমার্চে অংশ নেওয়া ডেলিগেটরা গাড়ি থেকে নেমে পথসভায় অংশ নেবেন না। স্থানীয় শাখার নেতাকর্মীরা এসব পথসভা বাস্তবায়ন করবেন। বহরের প্রতিটি গাড়িতে স্টিকার থাকবে এবং চলমান অবস্থায় কোনো গাড়ি বহরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে না। নতুন গাড়ি যুক্ত হলে তা বহরের শেষে যুক্ত হবে। গণমাধ্যমের গাড়িও বহরের সঙ্গে থাকবে।

শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আহ্বান

গোলাম পরোয়ার বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিরোধী ও সরকারি দলের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার প্রমাণ দেওয়ার সময় এসেছে। এখন পর্যন্ত তারা কোনো নাশকতার আশঙ্কা করছেন না বলেও জানান তিনি।

পুলিশের মহাপরিদর্শককে ১১ দল লিখিতভাবে কর্মসূচির বিষয়ে অবহিত করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, লংমার্চের রুটের দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ কর্মসূচিকে অভিবাদন জানাবেন।

দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের ধৈর্য, সাহস ও শৃঙ্খলার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন ১১ দলের নেতারা।

বৈঠক ও প্রেস ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলামসহ জোটের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad