এবারের আয়োজনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে সম্ভাব্য আইফোন ১৮ প্রো, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স এবং অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন নিয়ে। তবে এসব পণ্যের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি অ্যাপল।
অ্যাপলের ওয়েবসাইট, অ্যাপল টিভি ও ইউটিউবের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখা যাবে।
আসতে পারে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজপ্রযুক্তিবিষয়ক বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের আয়োজনে আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্স উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সাধারণ আইফোন ১৮ একই অনুষ্ঠানে নাও আসতে পারে। ‘দ্য ভার্জ’-এর তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মডেলটি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে আইফোন ১৮ই ও হালনাগাদ আইফোন এয়ারের সঙ্গে বাজারে আসতে পারে।
নতুন প্রো মডেলে বড় ব্যাটারি, তুলনামূলক ছোট ডায়নামিক আইল্যান্ড এবং পরিবর্তিত ক্যামেরা প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। এর মধ্যে ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার ক্যামেরা ব্যবহারের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব তথ্য এখনো অ্যাপলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
সবচেয়ে বড় চমক ফোল্ডেবল আইফোন?এবারের অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিবেদনে ডিভাইসটিকে সম্ভাব্যভাবে ‘আইফোন আলট্রা’ নামে উল্লেখ করা হলেও এ নামও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি অ্যাপল।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ফোনটি ভাঁজ খুললে এর পর্দার আকার আইপ্যাড মিনির কাছাকাছি হতে পারে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির পূর্বাভাস, ২০২৭ সালের মধ্যে অ্যাপল ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি ফোল্ডেবল আইফোন সরবরাহ করতে পারে।
ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজারে বর্তমানে স্যামসাংয়ের শক্ত অবস্থান রয়েছে। ফলে অ্যাপল এ ধরনের ফোন বাজারে আনলে প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
নতুন আইফোনের পাশাপাশি অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২, অ্যাপল ওয়াচ আলট্রার নতুন সংস্করণ এবং নতুন এয়ারপডস উন্মোচনের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এসব পণ্যের বিষয়ে নিশ্চিত হতে ৯ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠান পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বাংলাদেশে দাম নির্ভর করবে শুল্ক-করসহ নানা বিষয়ের ওপরনতুন আইফোনের দাম নিয়ে ক্রেতাদের আগ্রহ থাকলেও অনুষ্ঠানের আগে বাংলাদেশি বাজারদর সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত দামকে শুধু ডলারের বিনিময় হারে টাকায় রূপান্তর করলেই বাংলাদেশের বাজারদর নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশে অ্যাপলের নিজস্ব খুচরা স্টোর নেই। অনুমোদিত বিক্রেতা ও সেবা প্রদানকারীদের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি হয়। আমদানি ব্যয়, শুল্ক-কর, পরিবহন খরচ, বিক্রেতার মুনাফা ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর স্থানীয় বাজারে আইফোনের দাম নির্ভর করবে।
বর্তমান শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী আমদানি করা স্মার্টফোনে ২৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটির পাশাপাশি ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর, ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম কর রয়েছে। সব মিলিয়ে কার্যকর করভার ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশ।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্মার্টফোন আমদানির শুল্ক সাময়িকভাবে ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল। ওই সুবিধার মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হওয়ায় ১ জুলাই থেকে আগের উচ্চ করহার কার্যকর হয়েছে।
বিদেশ থেকে ফোন আনলে আইএমইআই যাচাই জরুরিনতুন আইফোন বাজারে আসার পর বিদেশি বা গ্রে মার্কেটের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিভাইস আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ধরনের ফোন কেনার ক্ষেত্রে আইএমইআই বৈধ কি না যাচাই করার পরামর্শ রয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থায় আইএমইআই যাচাই করা যায়। এ জন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে ‘KYD’ লিখে একটি স্পেস দিয়ে ১৫ সংখ্যার আইএমইআই নম্বর লিখে ১৬০০২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হয়। এনইআইআর ওয়েবসাইটেও হ্যান্ডসেটের বৈধতার তথ্য যাচাই করা যায়।
নতুন নেতৃত্বে অ্যাপলের প্রথম বড় পণ্য উন্মোচনএবারের আয়োজন অ্যাপলের জন্য নেতৃত্বের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। টিম কুক ১ সেপ্টেম্বর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ ছাড়ার পর নির্বাহী চেয়ারম্যান হয়েছেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দীর্ঘদিন হার্ডওয়্যার বিভাগের নেতৃত্বে থাকা জন টার্নাস। ফলে নতুন সিইওর অধীনে এটিই অ্যাপলের প্রথম বড় পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠান।
অ্যাপল বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রতিযোগিতা, চিপ সরবরাহ এবং স্মৃতি ও স্টোরেজ চিপের সংকটসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব কারণে নতুন আইফোন উন্মোচনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েও প্রযুক্তি বাজারে আগ্রহ রয়েছে।
৯ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানেই স্পষ্ট হবে, অ্যাপল সত্যিই প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে আনছে কি না এবং নতুন আইফোনে প্রত্যাশিত পরিবর্তনগুলোর কতটা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক