সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংগঠনটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৩ দশমিক ৪১ জন নিহত হয়েছিলেন। আগস্টে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৫১ জনে। আগস্টে নিহত ৪৮১ জনের মধ্যে ৬১ জন নারী ও ৫৮ জন শিশু।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই বেশিযানবাহনভিত্তিক হিসাবে আগস্টে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেলে। মাসটিতে ১৮৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৬ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় ১০২ জন পথচারী এবং বিভিন্ন যানবাহনের ৬৭ জন চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন।
আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনা বেশিসড়কের ধরন অনুযায়ী আগস্টে সবচেয়ে বেশি ৪২ দশমিক ৩০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এ ধরনের সড়কে ২১৭টি দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় মহাসড়কে ১৬৩টি, গ্রামীণ সড়কে ৬২টি এবং শহরের সড়কে ৭১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং মুখোমুখি সংঘর্ষ। প্রতিবেদনে প্রায় ৩৮ শতাংশ দুর্ঘটনার পেছনে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা বিভাগে প্রাণহানি সর্বোচ্চবিভাগভিত্তিক হিসাবে আগস্টে সবচেয়ে বেশি ১৭২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৪৪ জন।
জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি ৩৭ জন নিহত হয়েছেন বগুড়ায়। আর রাজধানী ঢাকায় ৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৫৪ জন আহত হয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি আগস্টে দেশে সাতটি নৌদুর্ঘটনায় ছয়জন এবং ৩৪টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনা কমাতে যেসব পদক্ষেপের সুপারিশসড়কে প্রাণহানি কমাতে বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
এ ছাড়া মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক সার্ভিস রোড নির্মাণেরও সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক