সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়, ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘জামানত মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির তালিকাভুক্তিকরণ নীতিমালা’ প্রণয়ন করা হয়। ওই নীতিমালার আওতায় জামানত মূল্যায়নের জন্য ১৩১টি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৮টি ‘ক’ গ্রুপ এবং ৩৩টি ‘খ’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ঋণের পরিমাণ বেশি হলে দুই গ্রুপের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান দিয়ে জামানত মূল্যায়ন করা যাবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংকের ঋণগ্রহীতার নেওয়া বা নেওয়ার কথা থাকা ঋণের বিপরীতে দেওয়া জামানতের মূল্যায়ন তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সময়ে সময়ে জারি করা জামানত মূল্যায়নসংক্রান্ত নির্দেশনাও যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তালিকাভুক্তির মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করতে হবে। তবে নির্ধারিত শর্ত ও নির্দেশনা পালন না করলে কিংবা যুক্তিসংগত কারণে তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কোনো প্রতিষ্ঠানকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশ ব্যাংকের থাকবে।
কেন এই ব্যবস্থা২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর জামানত মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির তালিকাভুক্তিকরণ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। ওই সময় বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, অতীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঋণের জামানত হিসেবে রাখা সম্পদের মূল্য কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। এতে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার পর তা খেলাপি হলে জামানত বিক্রি করেও ব্যাংকগুলো পুরো অর্থ আদায় করতে পারেনি।
এ ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতি বন্ধ করতেই জামানতের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ঋণের ঝুঁকি কমাতে ব্যাংকগুলো সাধারণত জমি ও ভবনের মতো স্থাবর সম্পত্তির পাশাপাশি মেশিনারি ও সহজে বিক্রয়যোগ্য পণ্যের মতো অস্থাবর সম্পত্তিও জামানত হিসেবে নেয়। এসব সম্পদের সঠিক মূল্য নির্ধারণ ঋণ ব্যবস্থাপনা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৩ সালের ওই সার্কুলার অনুযায়ী, ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জামানতের মূল্যায়ন করতে পারে। ১ কোটি টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিজস্ব মূল্যায়নের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত একটি জামানত মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করতে হয়।
আর ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে ন্যূনতম দুটি পৃথক তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান দিয়ে জামানত মূল্যায়ন করানোর নির্দেশনা রয়েছে।

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)