ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনিসে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের একজন যোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক কর্মীর ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এনসিপির দাবি, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি বাঁধনের ওপর হামলা চালিয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা নারী ও শিশুকেও আঘাত করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়।
এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী বিদেশে অবস্থান করছেন। বিদেশের মাটিতেও তারা জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর রাজনৈতিক সহিংসতা চালানোর চেষ্টা করছেন।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভেনিসে অবস্থান করার সময় তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর হামলায় জড়িত ছিলেন। হামলার সময় বাঁধনকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় বলেও দাবি করেছে এনসিপি।
দলটির নেতাদের ভাষ্য, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের মদত ও উসকানিতে রাজনৈতিক সহিংসতা চালানো হচ্ছে। ভেনিসের ঘটনাকে তারা এরই একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এনসিপি বলেছে, দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও এ ধরনের হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই। জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর হামলাকারীদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানিয়েছে দলটি।
বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের প্রতি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় এনসিপি।
একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তি, প্রবাসী কর্মী ও বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এনসিপির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভেনিসের ঘটনায় জড়িতদের কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করা না হলে এর দায় সরকারকে নিতে হবে। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশে ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও জানিয়েছে দলটি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক