কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম রঘুরামপুর। গোমতী নদীর ভাঙন ও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ। গত কয়েক বছর ধরে নদীভাঙনে একের পর এক ফসলি জমি ও চলাচলের রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বর্তমানে নদী চলে এসেছে বসতভিটার একেবারে কাছে। ফলে ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয়দের।
গোমতী নদীর বেড়িবাঁধের ভেতরে থাকা এ জনপদের মানুষের কাছে নদীভাঙন ও বন্যা যেন দীর্ঘদিনের নিত্যসঙ্গী। একদিকে নদীভাঙন, অন্যদিকে উজানের ঢল ও বর্ষা এলেই নতুন করে আতঙ্ক দেখা দেয়। স্থানীয়দের দাবি, গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে নদীর বাঁক ও গতিপথ পরিবর্তনের কারণে রঘুরামপুরে ভাঙন তীব্র হয়েছে।
নদী এগিয়ে আসছে বসতভিটার দিকেস্থানীয় বাসিন্দা অজুফা বেগম বলেন, নদী যেভাবে বাড়ির দিকে এগিয়ে আসছে, তাতে কখন বসতভিটা হারাতে হয়—এই ভয়েই দিন কাটছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে চান তারা। নদীভাঙন ঠেকিয়ে ঘরবাড়ি, জীবন ও জীবিকা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সরু মেম্বার বলেন, রঘুরামপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন ও বন্যার সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। বর্তমানে গ্রামের প্রধান সড়কটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থায়ীভাবে নদীভাঙন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসরঘুরামপুরের পরিস্থিতি নিয়ে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে নদীর লুপ কাটিং, জিও ব্যাগ ও ব্লকের মাধ্যমে রঘুরামপুর গ্রাম রক্ষায় কাজ করা হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা না নিলে নদী আরও এগিয়ে এসে বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গ্রাস করতে পারে। তাই স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স