সিংগাইরে ৩১ কোটি টাকার আখ, ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ দুপুর
  • ১৮১২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় এখন আখ কাটার ভরা মৌসুম। মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে সবুজ-হলুদ আখের সারি। কোথাও কৃষক-শ্রমিক ব্যস্ত আখ কাটায়, আবার কোথাও চলছে আঁটি বাঁধার কাজ। পরে ট্রাক ও বিভিন্ন যানবাহনে এসব আখ যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজার ও চিনি তৈরির কারখানায়।

অনুকূল আবহাওয়া ও আখ চাষের উপযোগী মাটির কারণে এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাড়তি খরচ, শ্রমিক সংকট, পরিবহন ব্যয় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সিংগাইরে প্রায় ২৯৮ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার আবাদ বেড়েছে ১৮ হেক্টর। এ মৌসুমে প্রায় ৩১ কোটি টাকার আখ বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আখ চাষ হলেও সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে বায়রা ইউনিয়নে। এ ছাড়া বলধারা, জামশা, চারিগ্রাম, তালেবপুর ও সিংগাইর সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাতেও আখ চাষ হয়েছে।

আখ চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন প্রায় এক হাজার কৃষক। সিংগাইরে রংবিলাস, গেন্ডারি, সুইং, বোম্বে, কুশুল, চানপুরা, নলঠেঙ্গা ও সাতাইশ জাতের আখ চাষ করা হয়।

বায়রা ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামের আখচাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বছর তিনি ১০ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় তার ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে এক বিঘা আখ ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শিবপুর গ্রামের আখচাষি মো. ইউনুছ নূরুল হক বলেন, আখ চাষে লাভ আছে। তবে অনেক সময় কৃষকরা সঠিক দাম পান না।

জামশার আখচাষি মুনছের অভিযোগ করে বলেন, মাঠ থেকে একটি আখ ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বিভিন্ন হাত ঘুরে সেটিই ভোক্তার কাছে ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সদাগর নামে এক কৃষক বলেন, বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম বেশি। এসব উপকরণের দাম কিছুটা কমানো গেলে উৎপাদন খরচ কমবে। এতে কৃষকের লাভ বাড়ার পাশাপাশি আখের আবাদও বাড়বে।

তবে আখ ব্যবসায়ী মোশারফ হোসেন বলেন, তারা কৃষকের কাছ থেকে মাঠে আখ কিনে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠান। পরিবহন, শ্রমিকসহ বিভিন্ন খরচ রয়েছে। এসব ব্যয় বাদ দিয়ে ব্যবসায়ীরা সামান্য লাভ করেন।

এদিকে আখ কাটার মৌসুমে প্রতি হাজার আখ কাটতে খরচ হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। এতে একজন শ্রমিক গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মজুরি পান।

সিংগাইর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কিশোর আহমেদ বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর দোআঁশ মাটির কারণে এ বছর আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। আখ চাষে কৃষকদের অধিকতর পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি উদ্ভাবিত নতুন জাত কৃষকদের মধ্যে সম্প্রসারণেও উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad