ফেসবুকের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব কনটেন্টে নির্মাতার নিজস্ব উপস্থাপনা ও নতুন মূল্য সংযোজন থাকে, সেগুলো বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তাই অন্যের কনটেন্ট পুনঃপ্রকাশের পরিবর্তে নিজস্ব পরিকল্পনা ও সৃজনশীলতায় তৈরি কনটেন্টের দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নিজের তৈরি কনটেন্টে বেশি গুরুত্বফেসবুকের ভাষ্যমতে, নির্মাতার নিজের ধারণ করা ভিডিও, নিজস্ব পরিকল্পনায় তৈরি কনটেন্ট এবং নিজের কণ্ঠ, উপস্থাপনা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা ভিডিওকে অরিজিনাল কনটেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কোনো বিষয়ে নিজে গবেষণা করে তথ্য উপস্থাপন করা কিংবা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যুক্ত করলেও কনটেন্টের মান ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। ফলে নিজস্ব চিন্তা ও সৃজনশীলতার প্রকাশ যত বেশি থাকবে, কনটেন্টের স্বাতন্ত্র্যও তত বাড়বে।
অন্যের কনটেন্টে যোগ করতে হবে নতুন মূল্যঅন্যের ভিডিও বা ফুটেজ ব্যবহার করলেই সেটি অরিজিনাল কনটেন্ট হয়ে যায় না। তবে ওই কনটেন্টের সঙ্গে নিজস্ব বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করলে দর্শকের জন্য বাড়তি মূল্য তৈরি হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে কোনো ঘটনার ফুটেজ শুধু দেখানোর পরিবর্তে ঘটনার কারণ, প্রভাব কিংবা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলে কনটেন্টটি নতুন মাত্রা পেতে পারে।
সামান্য সম্পাদনায় অরিজিনাল নয়অন্যের ভিডিওতে শুধু গান পরিবর্তন, ক্যাপশন বা বর্ডার যোগ করা কিংবা ভিডিওর গতি কমানো-বাড়ানোর মতো সামান্য সম্পাদনাকে মৌলিক কনটেন্ট হিসেবে গণ্য করা হয় না। কারণ এতে নতুন কোনো সৃজনশীল সংযোজন থাকে না।
রিঅ্যাকশন ভিডিওর ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। শুধু অন্যের ভিডিও দেখে প্রতিক্রিয়া জানানো যথেষ্ট নয়; নির্মাতার নিজস্ব মতামত, বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। কোনো ঘটনা কেন গুরুত্বপূর্ণ, এর প্রভাব কী কিংবা এতে নতুন কী তথ্য রয়েছে—এসব তুলে ধরলে কনটেন্টে বাড়তি মূল্য যোগ হয়।
ট্রেন্ড ও ভিডিও কনটেন্টের গুরুত্বঅরিজিনাল কনটেন্টের পাশাপাশি সাম্প্রতিক আলোচিত ও প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করলে অর্গানিক রিচ বাড়ার সুযোগ থাকে। এ ক্ষেত্রে ফেসবুকের ট্রেন্ডস ট্যাব ও হ্যাশট্যাগ বিশ্লেষণ কাজে লাগানো যেতে পারে।
এ ছাড়া ফেসবুকের অ্যালগরিদম বর্তমানে শর্ট-ফর্ম ভিডিও বা রিলস কনটেন্টকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে। তাই নিয়মিত মানসম্মত রিলস তৈরি করলে পেজের এনগেজমেন্ট বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।
দর্শকের সঙ্গে বাড়াতে হবে সম্পৃক্ততাদর্শকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও কনটেন্টের পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কমেন্টের উত্তর দেওয়া, পোল ব্যবহার করা এবং প্রশ্নভিত্তিক পোস্ট দেওয়ার মাধ্যমে দর্শকের সম্পৃক্ততা বাড়ানো যায়। এসব কার্যক্রম অ্যালগরিদমের কাছে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
পাশাপাশি অনিয়মিতভাবে পোস্ট করার পরিবর্তে নির্দিষ্ট একটি পোস্টিং সূচি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে মানসম্মত কনটেন্ট প্রকাশ করলে দর্শকের সঙ্গে সম্পর্কও ধরে রাখা সহজ হয়।
মনিটাইজেশনের শর্ত পূরণ জরুরিফেসবুক থেকে আয়ের সুযোগ পেতে হলে প্ল্যাটফর্মের নির্ধারিত মনিটাইজেশন শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে পেজের ফলোয়ার সংখ্যা, ভিডিওর ওয়াচ টাইম এবং কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলার বিষয় রয়েছে।
ইন-স্ট্রিম অ্যাডস ও ফেসবুক স্টারসের মতো ফিচারও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য আয়ের অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে ফেসবুকে আয় ও রিচ বাড়াতে কপি করা বা সামান্য সম্পাদিত কনটেন্টের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব পরিকল্পনা, অভিজ্ঞতা, বিশ্লেষণ ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে মৌলিক কনটেন্ট তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে দর্শকের সম্পৃক্ততা, ধারাবাহিকতা এবং ফেসবুকের মনিটাইজেশন নীতিমালা মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)