এশিয়ান গেমসে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হেরে অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। বড় এই পরাজয়ের পর দলের পারফরম্যান্সে হতাশা প্রকাশের পাশাপাশি মাঠের বাইরের বিভিন্ন ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন প্রধান কোচ পিটার বাটলার। তাঁর মতে, দলের ভেতরে অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের দুটি আলাদা গ্রুপ রয়েছে। পাশাপাশি খেলোয়াড়দের মাঝরাতে ফোন করা ও কনফারেন্স কলের মতো ঘটনায় দলের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধেই সাত গোল হজম করে বাংলাদেশ। পুরো ম্যাচে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচ শেষে বাটলার বলেন, উত্তর কোরিয়া অবিশ্বাস্য রকমের ভালো খেলেছে। দলটি যে গতিতে ফুটবল খেলেছে, এমন গতিময় ফুটবলের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার অভ্যাস বাংলাদেশের মেয়েদের নেই। একই সঙ্গে ওই পর্যায়ের দলের বিপক্ষে খেলার মতো পর্যাপ্ত শক্তিও বাংলাদেশের নেই।
তবে নিজেদের দলের পারফরম্যান্সে হতাশ কোচ। তিনি বলেন, ‘হাফ-টাইমে যা হয়েছে, আমি জাদুকর নই যে টুপি থেকে খরগোশ বের করে আনব। আমি পেশাদার ফুটবল কোচ। ইংল্যান্ডের হয়ে ৫শ’র বেশি ম্যাচ খেলেছি। আমি আরও অনেক জাতীয় ফুটবল দলের কোচ ছিলাম, পুরুষ দলেরও।’
‘এভাবে দল গড়ে তোলা যায় না’দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নিয়ে বাটলার বলেন, ‘আমাদের দলে দুটি আলাদা গ্রুপ আছে। একটি বয়স্ক বা অভিজ্ঞদের গ্রুপ, আর একটি তরুণদের গ্রুপ। এখানে কিছু সমস্যা রয়েছে।’
মাঠের বাইরের পরিস্থিতি তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে উল্লেখ করে বাটলার বলেন, ‘মাঠের বাইরে কী ঘটছে তা তো আর আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। তবে আমি সততার সঙ্গেই বলতে পারি, সভাপতি সহযোগিতা করছেন। কিন্তু অন্য কিছু মানুষ তা করছেন না—যারা মাঝরাতে খেলোয়াড়দের ফোন দিচ্ছেন, কনফারেন্স কল করছেন। এভাবে আপনি একটি দল গড়ে তুলতে পারেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বোকা নই। আমি জানি, কখন কোন জিনিস আমার বিরুদ্ধে কাজ করছে। মেয়েদের সঙ্গে যেটা হয়েছে, সেটি অপ্রত্যাশিত, কারণ আমি তাদের জন্য এখানে এসেছি।’
লক্ষ্য মিয়ানমার ম্যাচউত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে দল ভালো করেছে বলে মনে করেন বাটলার। তাঁর কাছে হারের ব্যবধানের চেয়ে সামনে কী লক্ষ্য, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, মেয়েরা দ্বিতীয়ার্ধে ভালো করেছে। আমরা ১-০ কিংবা ১০ গোলে হেরেছি, এটি কোনো বিষয় নয়। আমাদের লক্ষ্য কী, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের উদ্দেশ্য মিয়ানমার ম্যাচ। দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচও প্রায় একই রকম হতে পারে।’
তরুণদের নিয়েও ব্যাখ্যাবর্তমান বাংলাদেশ দলটি অনেক তরুণ খেলোয়াড়নির্ভর উল্লেখ করে বাটলার বলেন, দলে এমন একজন খেলোয়াড়ও রয়েছে যার বয়স মাত্র ১৫ বছর। তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নয়নে তাঁর কাজ অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
বাটলার বলেন, ‘তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নতির ক্ষেত্রে এটা ঠিক, না ভুল—এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। দলের উন্নতির ক্ষেত্রে আমি যেভাবে কাজ করছি, হয়তো নারী উইংয়ের প্রধান ও অনেক মানুষ সেটি পছন্দ করেন না। এ আলোচনা ভিন্ন খাতে যাবে। তবে ফেডারেশনের সভাপতি নারীদের সাপোর্ট করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তরুণদের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক কথা হবে। আপনাকে স্মরণ রাখতে হবে, আমাদের কোনো বোনাফাইড লিগ নেই। আমাদের নেই, আমি এই অজুহাত দিচ্ছি না।’
হারের দায় নিজের কাঁধেউত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে এমন ফলের জন্য অন্য কাউকে দায়ী না করে পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছেন বাটলার। তিনি বলেন, ‘আমি আজকের ফলের সব দায় কাঁধে নিচ্ছি। কারণ তারা সবাই আমার খেলোয়াড়।’
দলে অভিজ্ঞ ও তরুণ—দুই ধরনের খেলোয়াড় থাকায় কিছু সমস্যা রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে মাঠের বাইরের বিষয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলেও সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ কোচ।
বাটলারের ভাষায়, ‘মাঠের বাইরে কী হয়, সেটি আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে আমি ঘুরে দাঁড়াতে পারি এবং এটাই বলব, বাফুফে সভাপতি অনেক সাপোর্ট করেন।’
তথ্যসূত্র: ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলারের বক্তব্য; বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফ) ও এশিয়ান গেমসের ম্যাচসংক্রান্ত তথ্য।

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স