সোনালীর প্রভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৪ দুপুর
  • ১৬৯৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ব্যাংক খাতেও। সামগ্রিক ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমায় ধারাবাহিকভাবে কমছে ঋণ প্রবৃদ্ধি। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) দেশের ব্যাংক খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। একই সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর ঋণস্থিতি কমে সামগ্রিক ঋণ প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ধারায় নেমেছে।

মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের ঋণস্থিতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংক হলো—সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল)।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সোনালী ব্যাংক ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত অনেক ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা নাজুক। কিছু ব্যাংক নতুন করে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা হারিয়েছে। আবার যেসব ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, সেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হারও বেশি। ফলে নতুন ঋণ বিতরণে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ব্যাংকগুলো।

অন্যদিকে সোনালী ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও ব্যাংকটি সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ঋণ আদায়ের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ায় এবং নতুন ঋণ বিতরণ তুলনামূলক কম হওয়ায় ব্যাংকটির ঋণস্থিতি কমেছে।

কমেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের ঋণস্থিতি

তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের ঋণস্থিতি ছিল ৩ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে এসব ব্যাংকের ঋণস্থিতি কমেছে ৩ হাজার ৫৭২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বা ১ দশমিক ০২ শতাংশ।

এর আগের প্রান্তিকে অর্থাৎ জানুয়ারি-মার্চে ডিসেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের ঋণস্থিতি কমেছিল ০ দশমিক ৫১ শতাংশ।

সোনালী ব্যাংকের ঋণস্থিতি কমেছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা

ব্যাংকগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত মার্চ শেষে সোনালী ব্যাংকের ঋণস্থিতি ছিল ৯০ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। জুন শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে ব্যাংকটির ঋণস্থিতি কমেছে ৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে ব্যাংকটি ঋণ আদায়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন করে ঋণ বিতরণ তুলনামূলক কম হচ্ছে। আমানতের বড় অংশ সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ঋণ আদায়ের তুলনায় বিতরণ কম হওয়ায় ব্যাংকটির ঋণস্থিতি কমেছে।

জানা গেছে, ব্যাংকটির ঋণ প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় গত ১৩ জুলাই সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) ঋণ বিতরণ বাড়ানোর নির্দেশ দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

ঋণস্থিতি কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে সোনালী ব্যাংকের এমডি শওকত আলী খানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

জনতা ব্যাংকের ঋণস্থিতিও কমেছে

একই সময়ে জনতা ব্যাংকের ঋণস্থিতি কমেছে ৫২৯ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকটির ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বর্তমানে সীমিত। ব্যাংকটির মোট ঋণের প্রায় ৭৫ শতাংশ খেলাপি বলে জানা গেছে।

একসময় দেশের অন্যতম বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক জনতা ব্যাংক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বেক্সিমকো, এস আলম, অ্যানটেক্স, ক্রিসেন্ট ও থার্মেক্স গ্রুপের ঋণসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের কারণে আর্থিক চাপে পড়ে। এসব ঋণ আদায় না হওয়ায় নতুন ঋণ বিতরণে ব্যাংকটির সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

তবে জুন প্রান্তিকে রাষ্ট্রায়ত্ত অন্য চার ব্যাংকের ঋণস্থিতি বেড়েছে। এর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের ৮৭ কোটি, রূপালী ব্যাংকের ১ হাজার ৫০ কোটি, বেসিক ব্যাংকের ১২ কোটি এবং বিডিবিএলের ২৭ কোটি টাকা ঋণস্থিতি বেড়েছে।

বেসরকারি ব্যাংকে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক ০ দশমিক ২২ শতাংশ। তবে এ সময়ে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ইতিবাচক। বেসরকারি ব্যাংকে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং বিদেশি ব্যাংকে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

জানতে চাইলে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, জুন প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবৃদ্ধি কিছুটা নেতিবাচক হয়েছে। মূলত জ্বালানি সংকট এবং কিছু রপ্তানি কার্যক্রমে বিলম্বের কারণে সাময়িকভাবে ঋণের ব্যবহার কমেছে। তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার মতো বিষয় নয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে নতুন করে প্রচুর অর্ডার আসছে। ফলে খুব শিগগির এ সংকট কেটে যাবে এবং অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য ইতিবাচক দিকে ঘুরে দাঁড়াবে বলে তারা আশা করছেন।

হেলাল আহমেদ চৌধুরী আরও বলেন, জুন প্রান্তিকে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত বাজেটের দিকে নজর রাখেন। এ সময় শুল্কহারে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেটিও তারা পর্যবেক্ষণ করেন। ফলে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় নেন বিনিয়োগকারীরা। এ কারণে এ সময়ে ঋণ বিতরণেও কিছুটা স্থবিরতা দেখা যায়।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad