পাঠ্যবইয়ে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৫ দুপুর
  • ১৪৭১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যবইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর লেখা ঐতিহাসিক একটি ডায়েরির ছবিও পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে নতুন অধ্যায় হিসেবে নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)কে বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এনসিসিসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ‘যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।’

শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, নিবন্ধটি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হলে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম থেকে ভেসে আসা ঐতিহাসিক ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকের ঘটনাবলি সম্পর্কে জানতে পারবে।

জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বাসসকে বলেন, জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধটির ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতার সংগ্রাম সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ পাবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বলেন, নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারবে।

পাঠ্যবইয়ে জিয়াউর রহমানের পরিচয়

এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকের ২২ নম্বর গদ্যের লেখক পরিচিতি অংশে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ও ‘বীর উত্তম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে ২৫ মার্চের গণহত্যার পর শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেপ্তার হলে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিকামী মানুষের জন্য ‘তূর্যধ্বনির মতো’ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রবন্ধের শুরুতে দেওয়া ব্যাখ্যায় ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ এবং ১৯৮০ সালে অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’কে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও তাজউদ্দীন আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ নাম।

‘উই রিভোল্ট’ থেকে কালুরঘাট

নিবন্ধে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সম্মুখসমরের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

জিয়াউর রহমান তাঁর লেখায় উল্লেখ করেন, ১ মার্চ থেকে ২০তম বেলুচ রেজিমেন্টের রহস্যজনক গতিবিধি দেখে তাঁরা পরিস্থিতির আশঙ্কা করছিলেন। ২৫ মার্চ রাতে চট্টগ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান শুরু হলে তিনি ‘উই রিভোল্ট’ বলে প্রতিরোধের নির্দেশ দেন।

এরপর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অষ্টম ব্যাটালিয়নকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। নিবন্ধ অনুযায়ী, ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়।

পরে পটিয়ার পাহাড়ে গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার বর্ণনাও রয়েছে নিবন্ধে। সেখানে ইপিআরের সদস্যরা তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন এবং চট্টগ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখসমর শুরু হয়।

কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের ঘোষণা

২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনাও নিবন্ধে বর্ণনা করেছেন জিয়াউর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রেডিও স্টেশনে গিয়ে একটি এক্সারসাইজ খাতার পৃষ্ঠায় স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ঘোষণার বক্তব্য লিখেছিলেন তিনি।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, বেতার তরঙ্গে প্রচারিত ওই ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্ববাসী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ঘোষণা সম্পর্কে জানতে পারে।

২৪ আগস্টের সভায় অনুমোদন

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সভায় নিবন্ধটি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বাসসকে বলেন, এনসিসিসি সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad