সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের উদ্যোগে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
কর্মসংস্থানের তথ্যেও ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনবৈঠক সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত কাঠামোটি কার্যকর সমন্বয় কমিটির মতো কাজ করবে। এর আনুষ্ঠানিক নাম, কাঠামো ও কার্যপরিধি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে সরকারের ঘোষিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বাস্তব অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করাই হবে এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
দেশে বর্তমানে কত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, তার সমন্বিত পরিসংখ্যান এক জায়গায় না থাকায় এ বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কর্মসংস্থানের প্রকৃত চিত্র পেতে নির্দিষ্ট কয়েকটি খাত থেকে ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংকের অর্থায়নের মাধ্যমে প্রতি প্রান্তিকে কত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, তার হিসাব দিতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ এবং এর বিপরীতে কত নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, তারও ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, কাঁচামাল আমদানির তথ্য থেকে সামগ্রিক বিনিয়োগের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। একইভাবে ফাউন্ডেশন, সরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি ব্যাংক থেকে নিয়মিত কর্মসংস্থানের তথ্য পাওয়া গেলে দেশের শ্রমবাজার ও প্রকৃত বিনিয়োগের চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
যেসব সূচকে নজরবৈঠকে সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের অগ্রগতির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, বাজেট বাস্তবায়ন, প্রবৃদ্ধি, রাজস্ব আদায়, খেলাপি ঋণ ও রপ্তানি আয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচক পর্যালোচনা করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় তথ্য এক জায়গায় সমন্বিতভাবে না পাওয়ার বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে।
এ কারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভাগগুলোকে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি পরিমাপ এবং নির্ধারিত লক্ষ্য ও বাস্তব অর্জনের ব্যবধান কমানোই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
পর্যালোচনায় মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রপ্তানি, আমদানি, রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির মতো সূচকগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
চ্যালেঞ্জও রয়েছেনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনীতিতে কিছুটা কর্মচাঞ্চল্য ফিরলেও সামষ্টিক অর্থনীতি এখনো পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ। জ্বালানি সংকটের কারণে আমদানির চাপ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে। তবে এতে সাধারণ মানুষের জীবনে বড় ধরনের স্বস্তি ফেরেনি। অন্যদিকে গত অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকায় প্রবৃদ্ধির ধারাও মন্থর রয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ঐতিহাসিক নিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় বিনিয়োগে স্থবিরতা রয়েছে। উচ্চ সুদহার, ব্যবসার ব্যয় বৃদ্ধি ও নীতি-অনিশ্চয়তার কারণে নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতি বছর প্রায় ১৩ থেকে ১৪ লাখ মানুষ নতুন করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করায় কর্মসংস্থানের চাপও বাড়ছে। এর সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট এবং রাজস্ব আদায়ের ধীরগতিসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে নীতিনির্ধারকদের।
তথ্যসূত্র: আমার দেশ, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)