সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানাটিতে পুরোনো গাড়ির টায়ার আগুনে গলিয়ে কালো তেল ও কালি তৈরির কাজ চলছে। জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করতে দেখা যায়। কারখানাটিতে কোনো ব্যানার বা সাইনবোর্ডও চোখে পড়েনি। শ্রমিকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করতে দেখা গেছে।
ধোঁয়া-দুর্গন্ধে স্বাস্থ্যঝুঁকির অভিযোগস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টায়ার পোড়ানোর কালো ধোঁয়া ও দুর্গন্ধ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়া ও কালি বসতবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমিতে গিয়ে পড়ছে। এতে শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়াসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
একই সঙ্গে কারখানার ধোঁয়া ও কালির কারণে ফসল ও কৃষিজমির ক্ষতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক।
কারখানাটির প্রায় ১০০ গজ দূরে রয়েছে মঞ্জিলার দরগাহ দাখিল মাদরাসা। সেখানে প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদরাসার এক দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলেন, কারখানার দুর্গন্ধ মাদরাসা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, কারখানার পাশেই তাঁর আবাদি জমি। কারখানার কারণে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। তাই তিনি কারখানাটি বন্ধের দাবি জানান।
মালিকের দাবি ছাড়পত্র নিয়েই কারখানাস্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে কারখানার মালিক শামিম মণ্ডল বলেন, ‘আমি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েই কারখানা দিয়েছি। এখন ব্যবসার অবস্থা খারাপ, বেশিরভাগ সময় কারখানা বন্ধ থাকে।’
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল বাকিউল বারী বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে রংপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুস সালাম সরকার বলেন, ‘পীরগঞ্জে এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানকে আমাদের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে কারখানাটির পরিবেশগত অনুমোদন ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্তের পর প্রকৃত অবস্থা ও কারখানাটির অনুমোদনের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স