১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, সরেজমিনে সত্যতা পেল প্রশাসন

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৩ দুপুর
  • ৬২৭১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। সোমবার সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করে বাঁশ ব্যবহারের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁরা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রাতে নির্মাণকাজ, বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ

স্থানীয়রা জানান, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গীতে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই দিনের কাজ রাতে করা হচ্ছিল। এতে সন্দেহ হলে তাঁরা গোপনে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ শুরু করেন। একপর্যায়ে রাতে সেতুর ঢালাইয়ের কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি দেখতে পান বলে জানান তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর বলেন, ‘আমাদের এই মাইজখাড়ার ভেতরে যে সেতুটি হচ্ছে, সেখানে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

আরেক বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, ‘সেতুর কাজটি দিনের বেলায় করার কথা থাকলেও তারা রাতে কাজ করতেন। রাতে এলাকার ছেলেরা গিয়ে দেখে যে সেতুতে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। কিছু বালি-সিমেন্ট আর বাঁশ দিয়ে কাজ করছে।’

১০ কোটি টাকার প্রকল্প

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ গার্ডার সেতু পুনর্নির্মাণের কাজ পায় ‘মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাজ শুরু হয় এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে; বাকি রয়েছে ২০ শতাংশ।

ঠিকাদারের সুপারভাইজারের ব্যাখ্যা

বাঁশ ব্যবহারের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এই গ্যাপগুলোর ভেতরের শাটার বের করার সুযোগ নেই। বড়গুলোর ভেতরে শাটার দিয়ে কাজ করেছি, আর ওইগুলো এই গ্যাপ দিয়ে বের করেছি। আর এইটা বাঁশ দিয়ে স্লাব বানিয়ে ওপরে সিমেন্টের একটা বস্তা দিয়ে খাঁচা করে আমরা ঢালাই করেছি।’

সত্যতা পাওয়ার কথা জানাল প্রশাসন

বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সেতুর নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। তবে এ কাজের দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর নেবে না, এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের কাজ। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।’

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি অবগত হয়ে সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করি। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad