নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এবারের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন। তবে জার্মানি, ইতালি, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, নাইজেরিয়া, ভারত, চীন, রাশিয়া ও ফিলিস্তিনের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের কয়েকজন সশরীরে উপস্থিত হননি।
জার্মানি: ফ্রিডরিখ মার্ৎসজার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্ৎস অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নিউইয়র্কে যাননি। সেপ্টেম্বরে দেশটির তিনটি রাজ্যে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটসের নেতা ও চ্যান্সেলর হিসেবে মার্ৎস বর্তমানে রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। বিরোধীদের সম্ভাব্য বিদ্রোহ মোকাবিলায় তিনি দেশে অবস্থান করছেন। তার পরিবর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল অধিবেশনে অংশ নেন।
ইতালি: জর্জিয়া মেলোনিইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও অভ্যন্তরীণ কাজ সামলাতে জাতিসংঘ অধিবেশনে যাননি। জুলাইয়ের শুরুতে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার পর তিনি ইতালির কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও পেন্ডিং কাজের কথা জানিয়েছিলেন। তার পরিবর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা: সিরিল রামাফোসাব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে বিশ্রামে থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দেননি। তার পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলা অধিবেশনে অংশ নেন।
মিশর: আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিমিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিও এবার নিউইয়র্কে যাননি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবৌলি মিশরের প্রতিনিধিত্ব করেন। তবে আল-সিসির কার্যালয় থেকে তার অনুপস্থিতির নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি। ২০২০ সালের পর থেকে তিনি সশরীরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেননি।
নাইজেরিয়া: বোলা টিনুভুনাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুভু বর্তমানে অবকাশযাপনে থাকায় অধিবেশনে অংশ নেননি। আগস্টের শেষ দিক থেকে তিনি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে ছুটি কাটাচ্ছেন। তার পরিবর্তে দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি কাশিম শেটিমা পূর্ণাঙ্গভাবে নাইজেরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
ভারত: নরেন্দ্র মোদিভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সশরীরে অংশ নেননি। এর আগে ২০২১ সালে তিনি সর্বশেষ এই মঞ্চে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এরপর ভারত নিয়মিতভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে জাতিসংঘে পাঠাচ্ছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এবার বক্তাদের তালিকায় মোদির নাম থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার সফর পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়।
চীন: শি জিনপিংচীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অনুপস্থিতিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দেননি। এর পরিবর্তে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রীয় সফরে ছিলেন। সেখানে তিনি হোয়াইট হাউসের গালা ডিনার ও সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নেন।
তার এই সফরকে কেন্দ্র করে এমন ধারণাও তৈরি হয়েছে যে, চীন জাতিসংঘের বহুপক্ষীয় কূটনীতির পাশাপাশি পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এটি অবশ্য সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে করা একটি বিশ্লেষণ।
রাশিয়া: ভ্লাদিমির পুতিনরাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সশরীরে উপস্থিত হননি। তার পরিবর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ রাশিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন। পুতিন নিজেই ডিক্রি জারি করে লাভরভকে অধিবেশনে পাঠিয়েছেন। তবে নিজের অনুপস্থিতির কোনো কারণ তিনি জানাননি।
ফিলিস্তিন: মাহমুদ আব্বাসফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও এবার নিউইয়র্কে গিয়ে অধিবেশনে অংশ নিতে পারেননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র তাকে কূটনৈতিক ভিসা দেয়নি। গত বছরের মতো এবারও তার ভিসা হয়নি।
১৯৪৭ সালের জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তিতে বিদেশি প্রতিনিধিদের প্রবেশ সহজ করার কথা থাকলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পিএলও ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সদস্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। ফলে মাহমুদ আব্বাস গতবারের মতো এবারও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক