সেপ্টেম্বরজুড়ে জামায়াতের গণসংযোগ, স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে তৎপরতা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ দুপুর
  • ৫৩৭৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
স্থানীয় সরকার নির্বাচন, রাজনৈতিক বিভিন্ন দাবি এবং চলমান ইস্যুতে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে সেপ্টেম্বরজুড়ে দেশব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সভা, পথসভা, লিফলেট ও বই বিতরণ এবং ঘরে ঘরে যোগাযোগের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, গণসংযোগ কর্মসূচিতে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দাবিতে জনমত গঠনের চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি দাওয়াতি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সেবামূলক ও সামাজিক কর্মসূচিও পরিচালনা করেছে দলটি।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা এসব কর্মসূচিতে অংশ নেন। সম্ভাব্য স্থানীয় নির্বাচনের প্রার্থীরাও নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগে সক্রিয় ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঢাকায় কর্মসূচির উদ্বোধন

কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মাসব্যাপী গণসংযোগ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

দলটির দাবি, ওই অনুষ্ঠানে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাবেক বিচারপতি, ব্যবসায়ী, কওমি আলেমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৬৫০ জন জামায়াতে যোগ দেন। পরে মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের উদ্যোগে গণসংযোগ ও দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

একই দিন তুরাগ দক্ষিণ থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডে দাওয়াতি অভিযান উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও নগর উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এরপর মহানগর উত্তরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডেও অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হয়।

‘সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে’

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আমার দেশ-কে বলেন, নিয়মিত বার্ষিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সেপ্টেম্বরজুড়ে গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এর আগে আগস্টে মহিলা শাখার গণসংযোগ কর্মসূচি ছিল।

তিনি বলেন, কর্মসূচির সময় সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে সংগঠন ও বিভিন্ন আন্দোলন নিয়ে মতবিনিময় করা হয়েছে। আগ্রহীদের মধ্যে জামায়াতের পরিচিতিমূলক বিভিন্ন বই বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতা ও সম্ভাব্য প্রার্থীরাও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

জুবায়েরের ভাষ্য, গণসংযোগ কর্মসূচি শেষে তৃণমূল ইউনিটগুলোর কাছ থেকে বিস্তারিত প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হবে। কোথায় কী ধরনের কার্যক্রম হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা হবে।

লংমার্চ ও নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ও ছিল

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুস সাত্তার সুমন বলেন, বিভিন্ন স্থানে বুথ স্থাপন করে দাওয়াতি কার্যক্রম ও বই বিতরণ করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশে একযোগে দাওয়াতি কার্যক্রম চালানো হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পথসভা করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রুপভিত্তিকভাবে বাসাবাড়ি, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দাওয়াতি সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের বিষয়ে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনমত গঠনের কার্যক্রমও চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীরা আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতিতে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন।

দলীয় আমিরের আহ্বান

গণসংযোগ কর্মসূচি উপলক্ষে প্রচারিত লিফলেটে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান দলটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

লিফলেটে তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি ও অবিচারের অবসান, ভোট ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ইসলামের মৌলিক অনুশাসনের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বরের মাসব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পর কেন্দ্রীয়ভাবে তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিবেদন সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হবে। এর মাধ্যমে কর্মসূচির আওতায় কী ধরনের কার্যক্রম হয়েছে এবং কোথায় কী ফল পাওয়া গেছে, তা মূল্যায়ন করবে দলটি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad