মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান।
বিবৃতিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে উচ্ছেদ ও সড়ক সম্প্রসারণের অজুহাতে শতাব্দীপ্রাচীন মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের একটি অংশ অপসারণের ঘটনাকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছে ছাত্রশিবির। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের সিমহাস্থ কুম্ভমেলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে মসজিদের সড়কসীমায় থাকা অংশ অপসারণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুসলিমদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহার ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটে।
ছাত্রশিবিরের নেতারা অভিযোগ করেন, উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারিক নির্দেশনা উপেক্ষা করে ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তারা এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘বুলডোজার নীতি’ হিসেবে উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেন।
বিবৃতিতে ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ছাত্রশিবিরের দাবি, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA), জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (NRC) নিয়ে বিতর্ক এবং ওয়াকফ সংশোধন আইন, ২০২৫-এর মতো আইন ও নীতির কারণে মুসলিমদের নাগরিক, ধর্মীয় ও সম্পত্তিগত অধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংগঠনটির নেতারা আরও দাবি করেন, প্রকাশ্য স্থানে ধর্মীয় আচার পালনে বাধা, পোশাকের স্বাধীনতায় বিধিনিষেধ এবং গবাদিপশু পরিবহন বা বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে হামলা ও গণপিটুনির মতো ঘটনায় মুসলিমদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কর্মক্ষেত্র ও আবাসনের ক্ষেত্রেও মুসলিমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
শিক্ষাব্যবস্থায় মুসলিমদের ঐতিহাসিক অবদান উপেক্ষা এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলোর নাম পরিবর্তনের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ জানায় ছাত্রশিবির। সংগঠনটির মতে, এসব প্রবণতা ভারতের বহুত্ববাদী ঐতিহ্য ও সংখ্যালঘুদের সাংস্কৃতিক অধিকারের জন্য উদ্বেগের কারণ।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভারত ঐতিহাসিকভাবে বহুত্ববাদী ও বহুধর্মীয় দেশ। কোনো একটি আদর্শের রাজনৈতিক বা সামাজিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সংগঠনটি মনে করে।
এদিকে উজ্জয়িনীর শাহী মসজিদ নিয়ে স্থানীয় বিরোধের বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য মসজিদের একটি অংশ অপসারণের বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করেছিল।
বিবৃতিতে ধর্মীয় মতপার্থক্যের কারণে কোনো জনগোষ্ঠীর মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করার প্রচেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের জানমাল, সম্মান ও ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর কূটনৈতিক ভূমিকা পালনের জন্য জাতিসংঘ, ওআইসি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানায় ছাত্রশিবির।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বৈষম্যমূলক ও দমনমূলক নীতি পরিহার করতে ভারত সরকারের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক