বন্ধক রাখা জমির ফসল ঋণদাতা ভোগ করতে পারবেন কি? ইসলামের বিধান

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২০ দুপুর
  • ২৩৩২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
জরুরি প্রয়োজনে টাকা ধার নিয়ে তার নিশ্চয়তা হিসেবে জমি বন্ধক রাখা ইসলামী শরিয়তে বৈধ। তবে ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা জমি চাষ করে সেখানকার ফসল ভোগ করার অধিকার ঋণদাতার নেই। ঋণের কারণে বন্ধকী সম্পদ থেকে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা নেওয়া শরিয়তসম্মত নয় বলে জানিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, ঋণের নিশ্চয়তা হিসেবে কোনো সম্পদ বন্ধক রাখা বৈধ। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ২৮৩ নম্বর আয়াতে বন্ধকের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। হাদিসেও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বর্ম বন্ধক রাখার ঘটনা পাওয়া যায়।

তবে বন্ধক রাখা সম্পদ থেকে ঋণদাতা বাড়তি সুবিধা নিতে পারবেন না। শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এর বিপরীতে দুই বিঘা জমি বন্ধক রাখেন এবং ঋণদাতা সেই জমি চাষ করে প্রতিবছর উৎপাদিত ফসল নিজে ভোগ করেন, তাহলে তা শরিয়তসম্মত হবে না।

কারণ, ঋণদাতার অধিকার মূল টাকা ফেরত পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ঋণের বিনিময়ে জমির ব্যবহার, ফসল বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলে তা ঋণের ওপর অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার শামিল হতে পারে, যা সুদের পর্যায়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্মতি থাকলেও বৈধ হবে না

জমির মালিক নিজে সম্মতি দিয়ে ঋণদাতাকে জমি চাষের সুযোগ দিলেও শুধু এ সম্মতির কারণে বিষয়টি বৈধ হয়ে যাবে না। কারণ, ঋণের সঙ্গে যদি বন্ধকী জমি ভোগের সুবিধা শর্ত হিসেবে যুক্ত থাকে, তাহলে ঋণের বিনিময়ে অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি থেকেই যায়।

ইসলামী শরিয়তে বন্ধকের উদ্দেশ্য হলো ঋণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ঋণদাতাকে বন্ধকী সম্পদ থেকে মুনাফা দেওয়া নয়। ফলে বন্ধক রাখা জমি ঋণদাতার জন্য লাভের উৎসে পরিণত করা যাবে না।

বৈধ বিকল্প কী

তবে জমির মালিক চাইলে ঋণের চুক্তি ও জমি ব্যবহারের বিষয়টি আলাদাভাবে করতে পারেন। অর্থাৎ, ঋণের নিশ্চয়তা হিসেবে জমি বন্ধক থাকবে। একই সঙ্গে জমি চাষের জন্য পৃথকভাবে ইজারা বা বর্গাচাষের চুক্তি করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে জমির ন্যায্য ভাড়া বা উৎপাদিত ফসলের অংশ নির্ধারণ করতে হবে।

তবে জমি ব্যবহারের সুযোগ কোনোভাবেই ঋণ দেওয়ার শর্ত হতে পারবে না। অর্থাৎ, ঋণের সঙ্গে জমি ভোগের সুবিধা বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করা যাবে না।

শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী, ঋণ মানুষের প্রয়োজন মেটানো ও সহযোগিতার মাধ্যম। তাই ঋণের বিনিময়ে মূল অর্থের বাইরে অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। জমি বন্ধক রাখা বৈধ হলেও সেই বন্ধকী জমির ফসল ঋণের সুবিধা হিসেবে ভোগ করা বৈধ নয়।

তথ্যসূত্র: ৫ অক্টোবর ২০২৬; ইসলামী চিন্তাবিদ ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্য; পবিত্র কোরআন—সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৮৩।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad