প্রিজন ভ্যান থেকে পিচ্চি রাজার পালানোর ঘটনায় বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৯ দুপুর
  • ১৩৯০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া ৩০ মামলার আসামি পিচ্চি রাজা গাজীপুরের বাইমাইল থেকে নয়, ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর বোন তাসলিমা, পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) প্রবীর কুমার এবং প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চালক কামালের বাড়ি থেকে ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।

পুলিশ কমিশনার জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে রাতে তাঁদের কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার পথে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় দাবি করা হয়েছিল, গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় প্রিজন ভ্যান থামিয়ে এসআই প্রদীপ কুমার তাঁকে টয়লেটে যাওয়ার জন্য নামালে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান।

তবে তদন্তে ওই ঘটনার ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে ২৯ আসামিকে নিয়ে স্কট পার্টির প্রিজন ভ্যান কাশিমপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে ঢাকার তাঁতীবাজারে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে ভ্যানটি থামানো হয়। সেখানে স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার ভ্যানের চাবি নিয়ে পিচ্চি রাজা ও হাজতি আসামি বাশারকে ভ্যান থেকে নামিয়ে সামনের দিকে নিয়ে যান। বাশারকে চালকের পাশের আসনে বসানো হয়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ওই সময় পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর কেউই প্রিজন ভ্যানে ওঠেননি। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে উঠে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এসআই প্রবীর এজাহারে উল্লেখ করা কথিত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রিজন ভ্যানে ওঠেন এবং স্কট পার্টির সদস্যদের নিয়ে পিচ্চি রাজার পালানোর ঘটনাটি সাজানো হয় বলে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ কমিশনার বলেন, বিভিন্ন সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, এসআই প্রবীর কুমার ও চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের এবং পলাতক পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad