তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে রাখা হয়েছে। একটি হলো মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা, অরেকটি হলো আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা কি আধুনিক হতে পারে না? পারে। নৈতিক চরিত্র ছাড়া একটি শিক্ষাব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ ভিত্তির উপর দাঁড়াতে পারে না। শিক্ষাব্যবস্থায় যদি নৈতিকতা থাকে, তাহলে তাকেই কেবল পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাব্যবস্থা বলা যেতে পারে।
সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা অডিটোরিয়ামে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে বিরোধীদলী হুইপ এ কথা বলেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিরোধীদলীয় হুইপ আরো বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মানুষ গড়ার কারিগর। এসব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। বিগত সরকারের সময়ে দেখেছি, বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গেস্টরুম কালচার ছিল। টর্চার সেল ছিল। শিক্ষকেরা সারা রাত ছাত্রদের টর্চার করেছে, নির্যাতন করা হয়েছে, আহত করা হয়েছে, রক্তাক্ত করা হয়েছে। সকাল হলেই এই আহত ছাত্রদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এরা শিক্ষকের নামে কলঙ্ক। শিক্ষকদের যদি পরিপূর্ণ মর্যাদা দিতে হয়, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণমুক্ত করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশে নন-এমপিওভুক্ত যত শিক্ষক আছেন, তাদের এমপিভুক্ত করতে হবে এবং যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো জাতীয়করণ করা হয়নি, সেগুলো জাতীয়করণ করা। আমি আশা করব, আমাদের দেশের সরকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করবে। সরকার যদি না করে, তাহলে আমরা যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাই, তাহলে আমরা বাস্তবায়ন করব।’
সেমিনারে বক্তব্য দেনÑরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমীর মওলানা শাহীনুর আলম, সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক