চুনারুঘাট থানায় একদিন পর ফের এএসআইয়ের ঘুষের ভিডিও ভাইরাল

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৮ দুপুর
  • ২৩০৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অতনু বণিকের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একদিনের ব্যবধানে একই থানার দুই এএসআইকে ঘিরে ঘুষসংক্রান্ত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় পর্যায়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। এতে থানার অভ্যন্তরীণ নজরদারি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এএসআই অতনু বণিকের সঙ্গে এক ব্যক্তির কথোপকথন এবং অর্থ লেনদেনের একটি দৃশ্য দেখা যায় বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। ভিডিওতে দুজনের কথাবার্তার কিছু অংশও শোনা যায়। তবে ভিডিওটির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট, ধারণের নির্দিষ্ট সময় এবং সেখানে হস্তান্তর করা অর্থের প্রকৃতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মামলা দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখানোর অভিযোগ

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, এক ব্যক্তিকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এএসআই অতনু বণিক ঘুষ নিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগও আগে উঠেছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।

তাঁদের আরও দাবি, একটি মামলার তদন্তে গিয়ে এক নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর চুনারুঘাটের সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এএসআই অতনু বণিক বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও দুর্ব্যবহার করে অর্থ আদায় করতেন। তবে এসব অভিযোগও এখনো প্রমাণিত নয়।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা, ধারণের সময় এবং পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আগের দিনও আরেক এএসআইয়ের ভিডিও

এর একদিন আগেই চুনারুঘাট থানার আরেক এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওকে ঘিরে ঘুষ গ্রহণসংক্রান্ত নানা মন্তব্য ও আলোচনা শুরু হয়। পরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

একই থানার দুই কর্মকর্তাকে ঘিরে পরপর এমন অভিযোগের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশের দায়িত্ব পালন ও অভ্যন্তরীণ তদারকি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ভিডিওটির বিষয়ে বক্তব্য জানতে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অভিযুক্ত এএসআই অতনু বণিকের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, পুলিশ সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad