মাত্র ১.৭ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণে পার হয়ে গেছে দীর্ঘ দুই বছর। খোঁড়াখুঁড়ি, ধুলাবালি আর ইট-বালুর স্তূপে সড়ক এখন যেন এক দুর্ভোগের ফাঁদ।
নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং সীমাহীন ধীরগতিতে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা। অবশেষে সরেজমিনে গিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন উল্লাপাড়া-সলঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। কাজের মান ও ধীরগতি নিয়ে ঠিকাদারকে কড়া জবাবদিহির মুখোমুখি করার পাশাপাশি ফোনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে এক সপ্তাহের সময়সীমা (আলটিমেটাম) বেঁধে দিয়েছেন তিনি।
সোমবার ৫ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পৌরসভার কালিবাড়ি থেকে পাটবন্দর পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শনে যান স্থানীয় এমপি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। শ্যামলীপাড়া থেকে থানা মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও বাসিন্দাদের মুখোমুখি হয়ে তাঁদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা শোনেন।
পরিদর্শনকালে রাস্তার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও মাটি দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন এমপি। ঘটনাস্থল থেকেই তিনি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মেহেদী হাসানকে ফোন করেন। রাগের সুরে তিনি বলেন, “কাজের মান ভালো না, দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও কেন কাজ শেষ হচ্ছে না? রাস্তাটি খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখা হয়েছে, এতে মানুষের সমস্যা হচ্ছে। মানুষের এই দুর্ভোগ আপনাদের চোখে পড়ছে না?” এরপরই তিনি কঠোর বার্তা দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার কড়া নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কালিবাড়ি থেকে পাটবন্দর পর্যন্ত ১.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়।
জয়পুরহাটের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে কাজ পেলেও বাস্তবে তা করছেন স্থানীয় এক সাবঠিকাদার। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দুই পাশে রয়েছে অসংখ্য দোকানপাট, বাজার, মসজিদ, মন্দিরসহ উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের এই পথটি বন্ধপ্রায় করে রাখায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, তৈরি হয়েছে মারাত্মক দুর্ঘটনা ও যানজটের ঝুঁকি।
ধীরগতির বিষয়ে সাবঠিকাদার শহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যুতের খুঁটি, গ্যাস ও পানির লাইন সরানো এবং পুরোনো ড্রেন ভাঙার কারণেই সময় বেশি লাগছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—কাজ শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় কেন করা হলো না? দপ্তরগুলোর এই সমন্বয়হীনতার মাশুল কেন সাধারণ মানুষকে দিতে হবে?
এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, ইতোমধ্যে জামে মসজিদ পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। এমপি মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে কঠোর তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক