বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আয়োজিত এক সেমিনারে এসব বিষয় উঠে আসে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উদ্যোগে ‘ডিজিটাল এজেন্ডা অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টু রিডিজাইন ট্যুরিজম’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
পর্যটন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শসেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অরুণিমা রিসোর্ট গলফ ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড রুরাল বেসড অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইআরবিএ) নির্বাহী পরিচালক ইরফান আহমেদ।
তিনি বলেন, পর্যটন খাতের সার্বিক উন্নয়নে ডিজিটাল উদ্যোগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কম সময় ও শ্রমে কার্যকর ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।
তাঁর মতে, পর্যটকদের পছন্দ অনুযায়ী গন্তব্য নির্বাচন, তথ্য অনুসন্ধান, ভ্রমণ পরিকল্পনা, বুকিং, ভাষা অনুবাদ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় এআই সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি পর্যটকের সম্ভাব্য সংখ্যা নিরূপণ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হোটেল-রিসোর্টের সেবার মানও বাড়ানো সম্ভব। তবে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পরিবেশের সঠিক উপস্থাপন নিশ্চিত করতে হবে।
সম্ভাবনা থাকলেও পিছিয়ে পর্যটনশিল্পসেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমতাজ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে পর্যটনশিল্পের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও খাতটিকে এখনো মূলত ভ্রমণ ও বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। অথচ এটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে।
তিনি বলেন, কক্সবাজার ও সুন্দরবনসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য থাকলেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা এবং উন্নত ব্যবস্থাপনার ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্রসৈকতে পরিচ্ছন্নতা এবং গোসল ও পোশাক পরিবর্তনের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে পর্যটনের গুরুত্বপ্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, পর্যটন এখন আর শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ খাত।
বাংলাদেশের সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যে পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা, সেবার মান ও নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে এ সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন যারাবিভাগের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুস শহীদ মিয়া।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, রহিমআফরোজ (বাংলাদেশ) লিমিটেডের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ রহিম, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন সলিম, দিশা টাওয়ারের উপনির্বাহী পরিচালক মো. রবিউল ইসলাম এবং গোয়িংফ্লাই ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ভিসা কনসালটেন্সি ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক