বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দেন পলক, সভায় ছিলেন জয়ও

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৩ দুপুর
  • ৩০৫৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ-সংক্রান্ত একটি পূর্বনির্ধারিত সভায় অনলাইনে অংশ নিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) উপপরিচালক মাহদী আহমদ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে করা মামলায় তিনি সাক্ষী।

১৪ ও ১৬ জুলাই ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ

জবানবন্দিতে মাহদী আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার পর বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজার রহমান তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করেন। তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী পলক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে তাঁকে জানানো হয়।

এরপর মহাপরিচালক মোবাইল অপারেটরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওই নির্দেশনা পাঠান।

সাক্ষী জানান, ১৬ জুলাই দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একইভাবে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পলক বিটিআরসির তৎকালীন চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেন। চেয়ারম্যান তা মহাপরিচালককে জানান এবং মহাপরিচালক মোবাইল অপারেটরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তখন তিনি দাপ্তরিক কাজে অফিসে ছিলেন।

সভায় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন জয় ও পলক

মাহদী আহমদ আরও জানান, ১৬ জুলাই একটি পূর্বনির্ধারিত উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তৎকালীন আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অনলাইনে অংশ নেন। সভায় তাঁর একটি আলোচ্যসূচি থাকলেও তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তাঁর তৈরি করা নথি মহাপরিচালককে সরবরাহ করা হয়েছিল। ওই সভায় ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে নথিতে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন নেওয়া হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

২৮ জুলাই নেটওয়ার্ক চালুর নির্দেশ

সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী পলকের সভাপতিত্বে আরেকটি সভা হয়। এতে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি), এমএফএস সংস্থা ও মোবাইল অপারেটরগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ওই সভায় পলক এনটিএমসির তৎকালীন মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানকে চারটি মোবাইল অপারেটরের থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক চালুর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিটিআরসিকে ফেসবুক, টিকটক, আকামাই ও বাইসানের ক্যাশ সার্ভার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরে ৩১ জুলাই পলক ওই সার্ভারগুলো চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন বলেও জবানবন্দিতে জানান মাহদী আহমদ।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad