হাটিকুমরুল মহাসড়কে নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলারের দাপট, দেড় মাসে মামলা নেই

  • মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩১ দুপুর
  • ১৭৩৮৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
আইন ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল-সংলগ্ন বিভিন্ন মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে থ্রি-হুইলার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহন। এসব যানবাহনের চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে নিষিদ্ধ যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগের মধ্যে গত দেড় মাসে কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান। একই সঙ্গে মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের সুযোগ করে দেওয়ার নামে মালিক-শ্রমিক সমিতির কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘জিপি’ বা টোকেন ফি আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটিকুমরুল-সংলগ্ন ঢাকা–বগুড়া, পাবনা–নগরবাড়ী ও নাটোর–বনপাড়া মহাসড়কে এসব যানবাহনের চলাচল বেড়েছে। অথচ এ বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ পরিস্থিতির পেছনে প্রশাসনিক শিথিলতা কিংবা কোনো প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, থ্রি-হুইলার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মালিক-শ্রমিক সমিতির নামে কিছু ব্যক্তি মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে চালকদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে ‘জিপি’ বা টোকেন ফি আদায় করছেন। এ কাজে ‘চেইন মাস্টার’ নামে পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সিএনজিচালক জানান, নির্ধারিত টোকেন ফি না দিলে মহাসড়কে গাড়ি চালানোর সময় বিভিন্ন ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তবে এ অর্থ কারা আদায় করেন, কোথায় জমা হয় কিংবা কারা এর ভাগ পান—এসব বিষয়ে তাঁরা বিস্তারিত তথ্য দেননি।অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং অর্থ আদায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সমিতি ও প্রশাসনের বক্তব্য প্রয়োজন।ডাম্পিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতামহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহন আটক ও জব্দ করার ক্ষেত্রে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানায় পর্যাপ্ত ডাম্পিং সুবিধা না থাকার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, জব্দ করা যানবাহন রাখার উপযুক্ত জায়গার অভাবে আইন প্রয়োগের কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হতে পারে।তবে ডাম্পিং সুবিধার সীমাবদ্ধতা থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা কী, কিংবা এ কারণে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহনের চলাচল, মামলা না হওয়া, ডাম্পিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং সমিতির নামে টোকেন ফি আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিবেদক।এসময় তার কাছে গত এক থেকে দেড় মাসে নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলারের বিরুদ্ধে কতটি মামলা হয়েছে—জানতে চাইলে ওসি জানান, এ সময়ে এ ধরনের কোনো মামলা হয়নি। তবে মামলা না হওয়ার কারণ এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।এ অবস্থায় মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে মামলা না হওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ও দাপ্তরিক তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও সচেতন নাগরিকেরা মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, নিয়মিত তদারকি, আইন অনুযায়ী মামলা ও যানবাহন জব্দের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে।একই সঙ্গে মালিক-শ্রমিক সমিতির নামে ‘জিপি’ বা টোকেন ফি আদায়ের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং ডাম্পিং সুবিধার সীমাবদ্ধতা থাকলে তার সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।মহাসড়কে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি অভিযোগগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।এ বিষয়ে মুঠোফোনে হাইওয়ে পুলিশের বগুড়া রিজিওনের পুলিশ সুপার আবু তুরাব মো: শামছুর রহমানের জানতে চাইলে তিনি বলেন, সারদায় একটি পরিক্ষার হলে আছি এবিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad