শাপলা ভরা বিল

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫ দুপুর
  • ৩১০৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
গ্রামবাংলার প্রকৃতিতে বর্ষা নিয়ে আসে নতুন রূপ। মাঠ-ঘাট, খাল-বিল পানিতে ভরে ওঠে; জলরাশির বুকে ফুটে থাকে সাদা শাপলা। তেমনই এক অপরূপ সৌন্দর্যের আধার কানাবিল। বর্ষা এলেই বিস্তীর্ণ বিলটি সাদা শাপলায় ছেয়ে যায়। দূর থেকে মনে হয়, সবুজ পানির ওপর যেন বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে সাদা কার্পেট।সবুজের বুক চিরে গ্রামীণ পথ

কানাবিলের পথে এগোলে প্রথমেই চোখে পড়ে রাস্তার দুই পাশে সারি সারি কলাগাছ। মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া পথটি এ বছর পিচঢালাই করা হয়েছে। কোথাও কোথাও মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে খেজুরগাছ। সব মিলিয়ে পথটির দৃশ্য যেন গ্রামবাংলার এক শান্ত, স্নিগ্ধ ছবি।

কিছু দূর এগোলে বাঁ পাশে দেখা যায় একটি কর্দমাক্ত বাইপাস সড়ক। রাস্তার মুখেই রয়েছে মাঝারি আকারের একটি কদবেলগাছ। চারদিকে ছড়িয়ে থাকা ডালপালায় গাছটিকে দূর থেকে অনেকটা বটগাছের মতো দেখায়। ডালে ডালে ঝুলে আছে অসংখ্য কদবেল, যেন ছোট ছোট সাদা বল।

কাদামাখা পথ ধরে আরও কিছুটা এগোলেই চোখে পড়ে একটি প্রাচীন বটগাছ। স্থানীয় কৃষকদের কাছে এটি শুধু একটি গাছ নয়, বিশ্রাম ও গল্পের জায়গাও। মাঠে কাজের ফাঁকে কৃষকেরা এর ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেন, ভাগাভাগি করেন সুখ-দুঃখের কথা। সময়ের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাছটি গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে মিশে আছে নিবিড়ভাবে।

শাপলার সৌন্দর্যে মুগ্ধতা

বটগাছ পেরিয়ে সামান্য এগোলেই বর্ষায় পানিতে ডুবে যাওয়া বিস্তীর্ণ এলাকা—কানাবিল। বর্ষার পানি জমে বিলটি তখন সাগরের মতো বিশাল রূপ ধারণ করে। পানির ওপর ফুটে থাকা অসংখ্য সাদা শাপলা বিলটিকে করে তোলে অপরূপ সুন্দর। শাপলার সাদা ফুল, সবুজ পাতা আর পানির ঢেউ মিলিয়ে তৈরি হয় প্রকৃতির অনন্য এক দৃশ্য।

বাতাসে ঢেউ উঠলে পানির ওপর ভেসে থাকা শাপলাপাতাগুলো দুলতে থাকে। ফুল, পাতা ও জলরাশির এই ছন্দময় দোল দর্শনার্থীদের মনে জাগায় আনন্দ। প্রকৃতির এমন দৃশ্য দেখতে দূরে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হয় না; গ্রামের এই বিলেই মেলে নির্মল সৌন্দর্যের সন্ধান।

শাপলা ঘিরে জীবিকা

কানাবিলের সৌন্দর্য শুধু ফুলে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্থানীয় মানুষের জীবিকাও। কিশোর-কিশোরীরা ভেলায় করে বিল থেকে শাপলা সংগ্রহ করে। পরে সেগুলো স্থানীয় হাটে নিয়ে বিক্রি করে।

শাপলার ফুলের নিচে থাকা লম্বা, নরম অংশকে স্থানীয়ভাবে ‘নাইল’ বলা হয়। এটি সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। নাইল সংগ্রহ ও বিক্রি করে অনেক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে শাপলায় ভরা বিলটি একদিকে যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য ছড়ায়, অন্যদিকে তেমনি স্থানীয় মানুষের খাদ্য ও আয়ের উৎস হিসেবেও ভূমিকা রাখে।

প্রচারের আড়ালে প্রকৃতির এক আধার

কানাবিল হয়তো দেশের পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রগুলোর একটি নয়। পত্রপত্রিকা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এর সৌন্দর্য খুব একটা আলোচিত হয় না। তবু বর্ষাকালে শাপলায় ভরে ওঠা বিলটি স্থানীয় মানুষের কাছে প্রকৃতির এক অনন্য উপহার।

যাঁদের পক্ষে দূরদূরান্তে গিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব নয়, তাঁদের কাছে কানাবিলই হতে পারে প্রশান্তির আশ্রয়। সাদা শাপলা, সবুজ পাতা, জলরাশি আর গ্রামীণ পরিবেশের মেলবন্ধন মনকে ভরিয়ে দেয় সহজ আনন্দে।

প্রকৃতির সৌন্দর্য সব সময় বিখ্যাত স্থানেই সীমাবদ্ধ থাকে না। কখনো কখনো অচেনা কোনো বিল, গ্রামের একটি পথ কিংবা পুরোনো বটগাছের ছায়াতেই লুকিয়ে থাকে অনাবিল আনন্দ। বর্ষার কানাবিল তেমনই এক নীরব সৌন্দর্যের নাম।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad