বুধবার (২১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
পূরণ হয়নি তিন দফা দাবিযৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বাঘাইহাট ও মাচলং বাজার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধ এবং শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। এ সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় পুনরায় অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি। ওই দিন বাঘাইহাট জোনের উপ-অধিনায়ক মো. সালমান ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
পরে শর্তসাপেক্ষে অবরোধ স্থগিত করা হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগে ১৫ অক্টোবর আবারও কর্মসূচি পালন করা হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে পরবর্তী সময়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত রাখা হয়।
সাধারণ মানুষকে হুমকির অভিযোগবিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতারা অভিযোগ করেন, জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো আগের অবস্থানে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, শতাধিক সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামবাসীদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তাহীনতার কারণে জুমচাষীরা নিজেদের জমিতে গিয়ে হলুদ ও ঝাড়ুফুলের বাগান পরিষ্কার করতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
জরুরি সেবার যানবাহন অবরোধের আওতামুক্তঅবরোধ চলাকালে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী গাড়ি চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে সংগঠন দুটি। জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী গাড়ি এবং সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের যানবাহনও অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে বলে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
অবরোধের কারণে সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম ও সড়ক যোগাযোগে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক