শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ পুলিশের

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১০ বিকাল
  • ৪৪২৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগে করা মামলায় চিকিৎসার কাগজপত্র জাল পাওয়ার দাবি তদন্ত প্রতিবেদনে; ১ ডিসেম্বর শুনানি

জুলাই আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় মোট ৮৪ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ। তদন্তে বাদী নূর হোসেনের আহত হওয়ার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মামলার সঙ্গে জমা দেওয়া চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রও জাল বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উক্যমং রাখাইন।

সম্প্রতি বিষয়টি আদালতের নজরে এলে নথিপত্র পর্যালোচনা করে বাদীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির আদেশ দেন বিচারক। আগামী ১ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ ও তদন্ত

মামলার এজাহারে নূর হোসেন দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেলে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ময়ূর ভিলা এলাকায় গণআন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি হামলার শিকার হন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পিঠে ছয়টি, বাঁ পায়ের হাঁটুর ওপরে দুটি এবং ডান পায়ের হাঁটুর পাশে একটি গুলি লাগে। এতে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে হামলাকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এজাহারে আরও বলা হয়, গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে আসামিদের ভয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এসব অভিযোগে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন নূর হোসেন।

তবে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এজাহারের সঙ্গে জমা দেওয়া বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ব্যবস্থাপত্র ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র জাল। হাসপাতালের মূল রেজিস্টার ও চিকিৎসার নথি যাচাই করে সংশ্লিষ্ট তারিখে নূর হোসেন নামের কোনো ব্যক্তির চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

চিকিৎসার কাগজপত্রে অসংগতি

তদন্ত প্রতিবেদনে ব্যবস্থাপত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অসংগতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা সাধারণত হাতে লেখা ব্যবস্থাপত্র দেন। কিন্তু নূর হোসেনের জমা দেওয়া ব্যবস্থাপত্রটি ছিল কম্পিউটারে টাইপ করা।

দ্বিতীয়ত, ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখ করা ক্যাশ মেমো নম্বর যাচাই করে দেখা যায়, সেটি আব্দুস সাত্তার নামের ৫৪ বছর বয়সী এক রোগীর নামে বরাদ্দ ছিল। একইভাবে চিকিৎসাপত্রে উল্লেখ করা পেশেন্ট আইডি নম্বরটি ছিল জুয়েল নামের ৩২ বছর বয়সী অন্য এক ব্যক্তির।

এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের তালিকা নিয়ে সরকারের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক গেজেটেও নূর হোসেনের নাম পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব তথ্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে বলেন, বাদী আহত না হয়েও অসৎ উদ্দেশ্যে আহত হওয়ার মিথ্যা দাবি তুলে মামলাটি করেছেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ৮৪ আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

আট আসামি অন্য মামলায় গ্রেফতার ছিলেন

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার আট আসামিকে অন্য মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা অবস্থায় এ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছিল। তবে এ মামলার এজাহারের ভিত্তিতে নতুন করে কাউকে সরাসরি আটক করা হয়নি।

অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের ছাড়াও রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সলিমুল্লাহ সলু, ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ, সাবেক সহসভাপতি সলিম উল্লাহ পাটোয়ারী, মিলন হোসেন, মহিলা লীগ নেত্রী ইশরাত জাহান তামান্না ও স্বপ্না খন্দকার।

বাদী নূর হোসেনের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করার অভিযোগে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই উক্যমং রাখাইন জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে বাদীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad